Danda 2.0
Bengal liberty Desk, ২৪ ডিসেম্বর, কলকাতা: অঙ্কুশ হাজরা এবং শিলাজিৎ মজুমদার—দুইজন দুই ভিন্ন জগতের মানুষ। একজন যখন টলিউডের কমার্শিয়াল সিনেমার ‘ডান্সিং সুপারস্টার’, অন্যজন তখন বাংলা অল্টারনেটিভ মিউজিক বা জীবনমুখী গানের ‘রকস্টার’। কিন্তু এই দুই বিপরীত মেরুর মিলন যখন ঘটে, তখন যে বিস্ফোরণ হয় তার নাম ‘ডান্ডা’। প্রথম সিজনে অভাবনীয় সাফল্যের পর এবার ‘ডান্ডা ২.০’ নিয়ে মঞ্চে ফিরলেন তাঁরা, আর ফিরতেই কেল্লাফতে!
বাংলার বিনোদন জগতে এক্সপেরিমেন্ট অনেক হয়, কিন্তু সবটা সাধারণ মানুষের মনের মণিকোঠায় পৌঁছাতে পারে না (Danda 2.0)। তবে কিছু কিছু জুটি এমন থাকে, যাদের স্ক্রিনে আসা মানেই উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। অঙ্কুশ হাজরা এবং শিলাজিৎ মজুমদার তেমনই এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী জুটি। সম্প্রতি এক জমকালো মঞ্চে তাঁরা নিয়ে এলেন তাঁদের সিগনেচার পারফরম্যান্সের নতুন সংস্করণ— ‘ডান্ডা ২.০’। আর সেই পারফরম্যান্সের রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তাল নেটপাড়া।

‘ডান্ডা’ থেকে ‘ডান্ডা ২.০’: বিবর্তনের গল্প (Danda 2.0)
কয়েক বছর আগে একটি রিয়েলিটি শো-এর মঞ্চে প্রথমবার শিলাজিতের কাল্ট গান ‘ডান্ডা’র তালে অঙ্কুশকে নাচতে দেখা গিয়েছিল। সেই ভিডিওটি রাতারাতি ভাইরাল হয়। শিলাজিতের সেই অদ্ভুত গায়কী আর অঙ্কুশের ইলেকট্রিক ডান্স স্টেপস এক অনন্য ম্যাজিক তৈরি করেছিল। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সেই একই ম্যাজিক ফিরে এল নতুন আঙ্গিকে। ‘ডান্ডা ২.০’ কেবল একটি নাচ বা গান নয়, এটি ছিল বিনোদনের একটি কমপ্লিট প্যাকেজ।
মঞ্চের আগুন: যখন গিটার আর ডান্স ফ্লোর মিলেমিশে একাকার
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিলাজিৎ যখন তাঁর সেই চেনা ভঙ্গিতে গিটার হাতে মঞ্চে প্রবেশ করলেন, গ্যালারি ফেটে পড়ল চিৎকারে। আর ঠিক তার পরেই ব্যাকগ্রাউন্ডে ‘ডান্ডা’ গানের মিউজিক বাজার সাথে সাথে স্প্রিংয়ের মতো মঞ্চে আবির্ভূত হলেন অঙ্কুশ।
পারফরম্যান্সের হাইলাইটস:
• অঙ্কুশের এনার্জি: অঙ্কুশ হাজরা বর্তমানে টলিউডের অন্যতম সেরা ডান্সার। ‘ডান্ডা ২.০’-তে তাঁর মুভমেন্ট ছিল আরও শার্প এবং আরও পাওয়ারফুল। হিপ-হপ থেকে শুরু করে দেশি ঠুমকা—সবটাই তিনি মিশিয়ে দিয়েছিলেন শিলাজিতের গানের তালে।
• শিলাজিতের সোয়্যাগ: শিলাজিৎ কেবল গায়ক নন, তিনি একজন দক্ষ পারফর্মার। তাঁর গলার সেই রোয়াব আর মঞ্চে চলাফেরার মধ্যে যে অবিন্যস্ত আবেদন আছে, তা আজও যেকোনো তরুণ শিল্পীকে হার মানাতে পারে।
• রসায়ন: এই পারফরম্যান্সের আসল আকর্ষণ ছিল দুজনের কেমিস্ট্রি। একে অপরকে নিয়ে মজা করা, নাচের মাঝে শিলাজিতের সেই আইকনিক অভিব্যক্তি আর অঙ্কুশের অভিবাদন—সব মিলিয়ে মনেই হয়নি এটি কোনো রিহার্সাল করা পারফরম্যান্স। বরং মনে হয়েছে, দুই বন্ধু মঞ্চে আড্ডা দিচ্ছেন।
দর্শকদের মন জয়: কেন এই জুটি সবার সেরা?
সাধারণত দেখা যায়, সিনিয়র শিল্পীদের সাথে জুনিয়রদের পারফরম্যান্স অনেক সময় খুব ফর্মাল বা আড়ষ্ট হয়। কিন্তু শিলাজিৎ ও অঙ্কুশের ক্ষেত্রে সেই দেওয়ালটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। শিলাজিৎ যেমন অঙ্কুশের তারুণ্যকে আপন করে নিয়েছেন, অঙ্কুশও তেমনই শিলাজিতের লেগ্যাসিকে দিয়েছেন যথাযথ সম্মান।
দর্শকদের মতে, ‘ডান্ডা ২.০’ ছিল একটি ট্রিবিউট। শিলাজিতের গানের যে ‘মাটির গন্ধ’ বা ‘গ্রাম্যতা’ আছে, তাকে অঙ্কুশ তাঁর নাগরিক নাচের মাধ্যমে এমনভাবে পরিবেশন করেছেন যে, তা শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্র সমাদৃত হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়
মঞ্চে পারফরম্যান্স শেষ হতে না হতেই ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবে। ট্রল আর বিতর্কের ভিড়ে এই জুটির পারফরম্যান্স যেন এক পশলা টাটকা বাতাস। নেটিজেনদের একাংশ বলছেন, “শিলাজিৎ দা মানেই নস্টালজিয়া, আর অঙ্কুশ মানেই পিওর এন্টারটেইনমেন্ট। দুজনে মিলে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন!” অনেকে আবার অঙ্কুশকে অনুরোধ করেছেন যেন তিনি শিলাজিতের সাথে কোনো মিউজিক ভিডিও তৈরি করেন।
‘ডান্ডা ২.০’ কি কোনো বড় প্রজেক্টের ইঙ্গিত?
গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, অঙ্কুশ হাজরা ও শিলাজিৎ মজুমদারকে হয়তো খুব শীঘ্রই বড় পর্দায় বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে একসাথে দেখা যেতে পারে। ‘ডান্ডা ২.০’-র এই বিপুল জনপ্রিয়তা দেখে অনেক পরিচালকই তাঁদের নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। যদি কোনো মিউজিক্যাল অ্যাকশন মুভি বা কমেডি ড্রামায় তাঁদের কাস্ট করা হয়, তবে তা টলিউডের জন্য এক বিরাট পাওনা হবে।
শেষ কথা
অঙ্কুশ-শিলাজিৎ জুটি প্রমাণ করে দিয়েছে যে, শিল্পের কোনো বয়স হয় না, কোনো নির্দিষ্ট জেনার (Genre) হয় না। যদি পারফরম্যান্সের মধ্যে সততা থাকে, তবে তা দর্শকদের মন কেড়ে নিতে বাধ্য। ‘ডান্ডা ২.০’ কেবল একটি সিক্যুয়েল নয়, এটি একটি রিভল্যুশন। যা বুঝিয়ে দিল, টলিপাড়ার এই ‘গুরু-শিষ্য’ বা ‘দুই বন্ধু’র ম্যাজিক এখনও ম্লান হয়নি, বরং সময়ের সাথে তা আরও উজ্জ্বল হয়েছে।
মঞ্চে যখন অঙ্কুশ ও শিলাজিৎ একসাথে দাঁড়ান, তখন চারিদিক থেকে একটাই আওয়াজ ওঠে— “আরও একবার!”

