Ayushman Bharat
Bengal Liberty, ২৩ মে :
রাজ্যে পালাবদলের পর সাধারণের মানুষের একটি বড় প্রশ্ন ছিল, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সুবিধা কী বন্ধ হয়ে যাবে? এবার তার উত্তরে বড় ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Ayushman Bharat)। এবার রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে আজ, শনিবারের উচ্চপর্যায়ের স্বাস্থ্য বৈঠকেএকাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন তিনি। তার মধ্যমণি হল, “আয়ুষ্মান ভারত”। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে তাল মিলিয়ে “আয়ুষ্মান ভারত” প্রকল্পে এবার ৯৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে যাঁরা বিগত সরকারের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সুবিধা পান, তাঁরা এখন থেকে সরাসরি আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন। স্বাস্থ্যসাথীর সঙ্গে যুক্ত ৬ কোটির বেশি মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় আসবে বলে জানান তিনি।জুলাই মাস থেকেই রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত কার্ড মিলবে। শুধু তাই নয়, আরও বৃহৎ পরিসরে এই স্বাস্থ্য প্রকল্পকে সম্প্রসারণের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি (Ayushman Bharat)।

প্রাক্তন সরকারকে তুলোধোনা শুভেন্দুর (Ayushman Bharat)
স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাতের অধ্যায় এবার অতীত, এমনই বার্তা দিল নতুন সরকার। আগের সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে বর্তমান প্রশাসন জানিয়েছে, এবার একসঙ্গে কাজ করেই রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করে তোলা হবে। সরকারের দাবি, এই বদলের সরাসরি সুবিধা পাবেন সাধারণ মানুষ। সেই লক্ষ্যেই “আয়ুষ্মান ভারত” প্রকল্পে ৯৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, গুরুতর অসুখে আক্রান্ত রোগীদের জন্যও বড় স্বস্তির খবর এসেছে। “অমৃত ভারত” প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন দামি ও জরুরি ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে এবার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যাবে। ফলে চিকিৎসার খরচ অনেকটাই কমবে এবং সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক চাপও হালকা হবে বলে আশা সরকারের।

প্রত্যেক জেলায় মেডিকেল কলেজ (Ayushman Bharat)
রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে বড় পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে সরকার। নতুন রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী দিনে প্রত্যেক জেলাতেই একটি করে মেডিকেল কলেজ গড়ে তোলা হবে। যাতে চিকিৎসার জন্য আর মানুষকে দূর শহরে ছুটতে না হয়, নিজেদের জেলার মধ্যেই যেন উন্নত চিকিৎসার সুযোগ মেলে। সরকার জানিয়েছে, যারা নতুন করে এই স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলির আওতায় আসতে চান, তাঁদের জন্যও আলাদা বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, এখন মানুষের পরিষেবাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যখাতে ডিজিটাল পরিষেবা বৃদ্ধি, আধুনিক পরিকাঠামো এবং নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষও এবার উন্নত চিকিৎসার সুবিধা পাবেন বলে আশাবাদী সরকার।

এই প্রকল্প দ্রুত কার্যকর করতে প্রশাসনিক স্তরে ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু হয়েছে। সরকারের দাবি, স্বাস্থ্যখাতে আধুনিকীকরণের এই উদ্যোগ আগামী দিনে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনবে। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য। নতুন পরিকাঠামো তৈরি হলে যেমন কর্মসংস্থান বাড়বে, তেমনই স্বাস্থ্য পরিষেবার মানও আরও উন্নত হবে বলে আশাবাদী প্রশাসন।

