West Bengal Education Reform
Bengal liberty, ২৩ মে: স্কুল মানেই কি শুধু এক পিঠ ভারী বই আর চার দেওয়ালের মাঝে মুখস্থ বিদ্যা? এই ধারণা এবার আমূল বদলে যেতে চলেছে। রাজ্য শিক্ষা দফতরের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় স্কুল পড়ুয়াদের জন্য কেবল ব্যাগের ওজনই কমানো হয়নি, বরং জোর দেওয়া হয়েছে ‘বাইরের পৃথিবী’ থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর। আর এই নতুন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বছরে দশ দিনের ‘নো ব্যাগ ডে’ বা ‘ব্যাগহীন দিন’।

চার দেওয়ালের বাইরে আসল শিক্ষা (West Bengal Education Reform)
রাজ্য সরকারের এই অভাবনীয় সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো শিশুকে পুঁথিগত বিদ্যার বন্দিদশা থেকে মুক্তি দেওয়া। ওই নির্দিষ্ট দিনগুলোতে পড়ুয়ারা কোনও বই-খাতা ছাড়াই স্কুলে যাবে। তারা সরাসরি পৌঁছে যাবে পাড়ার কামার, কুমোর , মালি বা ছুতোরদের মতো কারিগরদের কাছে কিংবা কোন শিল্পীর কাছে। তথাকথিত নিচু শ্রেণির বলে পরিচিত এই মানুষগুলোর হাতের কাজ এবং শ্রমের মর্যাদা সামনাসামনি দেখবে শিশুরা।


অভাবনীয় চিন্তাধারার বিকাশ (West Bengal Education Reform)
শিক্ষাবিদদের মতে, এই পদক্ষেপ শিশুদের মধ্যে এক উন্নত মানসিকতা গড়ে তুলবে । সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে কাজ শেখার ফলে ছোটবেলা থেকেই তাদের মধ্যে জাতপাত বা পেশার ভেদাভেদ মুছে যাবে। যান্ত্রিক হোমওয়ার্কের চাপের বদলে মাটি বা লোহা নিয়ে কাজ করা কারিগরদের থেকে হাতে-কলমে শিক্ষা তাদের সৃজনশীলতাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।অন্যের শ্রমকে শ্রদ্ধা করতে শেখাই হলো প্রকৃত শিক্ষা, যা এই ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
আরো পড়ুন:- CM Suvendu Adhikari : নিয়োগে স্বচ্ছতার বার্তা শুভেন্দুর, “দুর্নীতির বদনাম মুছে ফেলতে হবে পশ্চিমবঙ্গকে”
ব্যাগের ওজন শরীরের ১০ শতাংশের মধ্যে বেঁধে দেওয়া এবং নিচু ক্লাসে হোমওয়ার্ক বন্ধ করার সিদ্ধান্ত মূলত শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশের পথ প্রশস্ত করেছে। শিক্ষা এখন আর শুধু পিঠের ওপর বয়ে নিয়ে যাওয়া কোনো ‘বোঝা’ নয়, বরং জীবনকে চেনার এক নতুন আনন্দময় যাত্রা। রাজ্য সরকারের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্ত কেবল একটি সরকারি নির্দেশিকা নয়, বরং আগামীর এক মানবিক ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে তোলার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।

