Bulldozer action
Bengal liberty desk, 24 মে, কলকাতা:
বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিকে কার্যকর করতে এবার খোদ তিলোত্তমায় নজিরবিহীন অভিযানে নামল কলকাতা পুরসভা (Bulldozer action)। রবিবার সকাল থেকেই শহরের তিন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা— তিলজলা, কসবা এবং বেলেঘাটায় একযোগে শুরু হয় বুলডোজার অভিযান। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

তিন এলাকায় অভিযানের খুঁটিনাটি Bulldozer action
তিলজলার ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের জি জে খান রোডে একটি ৭ তলা বেআইনি বহুতল ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। ৩টি বুলডোজার নিয়ে এই অভিযানে নামে পুরসভা। অভিযোগ, অগ্নিসুরক্ষা বিধি না মেনেই ঘিঞ্জি এলাকায় এই বহুতলটি তোলা হয়েছিল।

কসবার বি বি চ্যাটার্জি স্ট্রিটে ৫ তলা একটি বেআইনি বাড়ি ভাঙতে আনা হয় বুলডোজার। স্থানীয় সূত্রে খবর, এই নির্মাণের সঙ্গে কুখ্যাত ব্যবসায়ী সোনা পাপ্পুর যোগ রয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল হুঁশিয়ারি দেন, “বেআইনি নির্মাণে মদত দেওয়া পুর আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বেলেঘাটার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইস্ট কুলিয়া রোড ও বারোয়ারিতলায় তৃণমূল নেতা রাজু নস্কর ঘনিষ্ঠের দুটি বেআইনি বাড়ি ভাঙা হচ্ছে। গলির মুখ সংকীর্ণ হওয়ায় বুলডোজার ঢোকাতে কিছুটা বেগ পেতে হয় পুরকর্মীদের।
পুরমন্ত্রীর নিশানায় প্রাক্তন মেয়র
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সরাসরি প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে তোপ দেগে বলেন, “পুরসভা বা তৎকালীন মন্ত্রীর নজর এড়িয়ে কীভাবে দিনের পর দিন এই অট্টালিকাগুলো মাথা চাড়া দিয়ে উঠল, তা তদন্ত করে দেখা হবে।” পাশাপাশি তিনি জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৭টি সম্পত্তিতেও অনিয়মের অভিযোগে নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং আইন সবার জন্যই সমান।
পুরসভা সূত্রে খবর, কলকাতা পুরসভা আইন, ১৯৮০-র ৪০০(১) ধারা অনুযায়ী আগেই এই নির্মাণগুলিকে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। মালিকরা সন্তোষজনক উত্তর না দেওয়ায় এবং শুনানিতে হাজিরা না দেওয়ায় এদিন সরাসরি ভাঙার কাজ শুরু হয়। তবে হাইকোর্টের নির্দেশে তিলজলার একটি নির্দিষ্ট অংশের ক্ষেত্রে আপাতত স্থিতাবস্থা বজায় রাখা হয়েছে।

