Holding Center
বেঙ্গল লিবার্টি, কলকাতা:
রাজ্যে অনুপ্রবেশ পুরোপুরি নির্মূল করতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত তৎপর নবান্ন। সন্দেহভাজন বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে আটকে রাখার জন্য এবার রাজ্যজুড়ে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরি করবার কড়া নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য সরকার।

প্রত্যেক জেলার পুলিশ সুপার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট ডিজিপি কলকাতা সহ প্রত্যেকটা কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনারদের এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। ২০২৫ সালের ২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ফরেনারস ডিভিশনের পক্ষ থেকে আট পাতার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে সেই নির্দেশিকারী একটি অংশ হচ্ছে – সন্দেহভাজন বাংলাদেশী এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের জন্য হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা। কোন ব্যক্তিকে যদি সন্দেহজন মনে হয় এবং তিনি যদি নিজেকে দাবি করেন – তিনি ভারতীয়, কিন্তু ল এনফোর্সমেন্ট সংস্থার যদি সন্দেহ হয় যে তিনি ভারতীয় নন তাহলে ৩০ দিন পর্যন্ত এই হোল্ডিং সেন্টারে রেখে তার নথিপত্র খতিয়ে দেখার ক্ষমতা দেওয়া হলো পুলিশকে।

সন্দেহ হলেই ৩০ দিন আটক
৩০ দিনের মধ্যে সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে ওই সন্দেহভাজন বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী কিনা বা রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী কিনা সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন জেলাশাসক বা ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টার পদমর্যাদার আধিকারিক। নতুন এই গাইডলাইনে পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে এক বিপুল ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কেবল সন্দেহভাজন রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী নয় যারা অনুপ্রবেশকারী হিসেবে ধরা পড়েছিলেন তাদের ডিপোটেশনের আগ পর্যন্ত এই হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হবে বলে রাজ্য সরকারের এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে পূর্বতন সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, “কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই কড়া নির্দেশিকা ২০২৫ সালেই জারি করা হয়েছিল। কিন্তু ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণে আগের তৃণমূল সরকার সেই নির্দেশিকা মেনে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি, ফাইল ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিল।” মুখ্যমন্ত্রীর মতামত, জাতীয় সুরক্ষার প্রশ্নে কোনও আপস নয় এবং এই নির্দেশিকা দ্রুত কার্যকর করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই নবান্নের এই নোটিফিকেশন জারি হলো।

