Suvendu Dev meeting
Bengal Liberty : দীর্ঘ চার দশক ধরে ঝুলে থাকা ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ অবশেষে বাস্তবায়িত হতে চলেছে। মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে মূল মঞ্চে দেখা গেল ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব)-কে। বাংলায় নতুন সরকার গঠন এবং তৃণমূলের অন্দরে ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের তালিকায় দেবের নাম ওঠার গুঞ্জনের মাঝেই এই বৈঠক রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল ফেলেছে (Suvendu Dev meeting)।

কতদিন এবং কেন আটকে ছিল এই প্রকল্প? (Suvendu Dev meeting)
পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল এলাকায় প্রতি বছর বর্ষায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয় (Ghatal Master Plan)। এই স্থায়ী জলযন্ত্রণা থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে প্রায় ৪০ বছর আগে তৈরি হয়েছিল ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রকল্পের কাজ কেন্দ্র ও রাজ্যের টানাপোড়েনে আটকে ছিল। মূল প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় মোট ১২৭০ কোটি টাকা কে দেবে, তা নিয়ে তরজা চলত। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে কেন্দ্র টাকা দিচ্ছে না। এরপর রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে প্রথম দফায় ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে কাজ শুরুর কথা ঘোষণা করে।
লোকসভা নির্বাচনের আগে দেব ঘোষণা করেছিলেন, ২০২৬ সালের মধ্যে এই কাজ না হলে তিনি আর রাজনীতি করবেন না। অন্যদিকে, বিজেপি অভিযোগ করেছিল, মমতা সরকারের বরাদ্দ করা টাকা আসলে ২০২৬-এর ভোটের খরচের জন্য। এছাড়াও মান সিংহ কমিটির পুরনো নদী পরিকল্পনার জটিলতা এবং জমি অধিগ্রহণের সমস্যার অজুহাতে বছরের পর বছর কাজ থমকে ছিল।
‘ডবল ইঞ্জিন’ গতি ও শুভেন্দুর মাস্টার প্ল্যান (Suvendu Dev meeting)
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই এই প্রকল্পে এবার অভাবনীয় গতি আসতে চলেছে। সোমবারই নবান্নে ৩৪টি দফতরের সচিবদের নিয়ে বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশ দেন।
বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যে সমমনোভাবাপন্ন সরকার থাকায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ৫০-৫০ শতাংশ হারে প্রকল্পের মোট ব্যয় বহন করবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার।
কোলাঘাটের বৈঠকে দেব (Suvendu Dev meeting)
সোমবারই দিল্লির লোকসভা স্পিকারের কাছে তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ এনডিএ ব্লকে যোগ দেওয়ার চিঠি পাঠানোর পর, মঙ্গলবার কোলাঘাটের প্রশাসনিক বৈঠকে দেবের উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বেলা ১২টা নাগাদ বলাকা মঞ্চে পৌঁছন দেব। শুভেন্দু অধিকারীর পাশে মূল মঞ্চে বসে ঘাটালের উন্নয়ন এবং বন্যা সমস্যা মেটানো নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন বিদ্রোহী তালিকায় থাকা আরেক সাংসদ জুন মালিয়াও।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এবার কেন্দ্র-রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে ঘাটালবাসী স্থায়ীভাবে জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে চলেছেন।
আরও পড়ুন: পচা ডিমের ট্রেন্ড ভেঙে গোবর মাখলেন সব্যসাচী

