Anubrata Kajal
Bengal Liberty : অনুব্রত মণ্ডল, যাকে ‘বীরভূমের বাঘ’ নামে আখ্যায়িত করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Anubrata Vs Kajal)। ভালোবেসে তাঁর আদরের ভাইকে ‘কেষ্ট’ বলেই ডাকতেন মমতা। সেই আস্থাভাজন বলে পরিচিত অনুব্রতও দলের দুর্দিনে দিদির হাত ছাড়তে চলেছেন। অপরদিকে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলে ইতিমধ্যেই উপস্থিত বীরভূমের রাজনীতিতে অনুব্রতের সঙ্গে যাঁর ‘সুসম্পর্ক’ বহুল আলোচিত, অর্থাৎ সেই কাজল শেখও রয়েছেন ঋতব্রত শিবিরের জাতীয় কর্মসমিতিতে (Anubrata Vs Kajal)। তৃণমূলের অন্দরে কাজল অনুব্রতকে সাপ-নেউল বলে চিহ্নিত করা হত। তাঁদের দুজনকে কোনদিন এক টেবিলে বসাতে পারেননি মমতা। এবার ঋতব্রতর কাঁধে গুরু দায়িত্ব! বিরোধী দলনেতা কি পারবে মান অভিমানের খেলা শেষ করতে?

ইতিমধ্যেই ঋতব্রতর মান ভাঙাতে শুরু করেছে কাজল (Anubrata Vs Kajal)
বিধানসভা অধিবেশন চলাকালীন ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস সংশোধনী বিল পেশ হতেই ভোটাভুটিতে না-গিয়ে ওয়াকআউট করে নব-তৃণমূল। ঋতব্রতর নির্দেশে বাকি বিরোধী বিধায়করা কক্ষ ত্যাগ করলেও বিরোধী দলনেতার নির্দেশ অমান্য করে ৬ জন। কাজল শেখের নেতৃত্বে মোট ৬ জন নব-তৃণ বিধায়ক হাউজে কক্ষে থেকে ভোট দান থেকে বিরত থাকেন। কাজল শেখের মদত করে বাইরণ বিশ্বাস। ফলে, ঋতব্রতর লবির ৬ জন বিধায়কের এই ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা দানা বাঁধতে শুরু করে। কাজল শেখের এই কার্যকলাপে বিরোধী দলনেতা যে ভালো চোখে দেখবেন না তা বুঝতে কিছুটা সময় লাগে কাজলের। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে বিরোধী দলনেতাকে ১০০ বারেরও বেশি কল করেন বলে কাজল শেখ, সূত্রের খবর। কিন্তু একবারই কল তুলেছিলেন ঋতব্রত। তবে এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলের ধারণা পরবর্তীতে কাজল ঋতব্রতর কথার খেলাপ করবে না।

এক ঘাটে জল খাবে কাজল-অনুব্রত! (Anubrata Vs Kajal)
দীর্ঘদিন ধরেই অনুব্রত মণ্ডল ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম বিশ্বস্ত সৈনিক। রাজনৈতিক ঝড়-ঝাপটা, বিতর্ক কিংবা সংকট, সব পরিস্থিতিতেই তাঁর অবস্থান ছিল একটাই, ‘দিদিই শেষ কথা’। বিধানসভা নির্বাচনের আগেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, প্রার্থী যিনিই হন না কেন, দলের মুখ এবং ভরসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। তবে নির্বাচনের পর থেকেই অনুব্রতের বক্তব্যে ধরা পড়তে শুরু করে কিছুটা ভিন্ন সুর। কখনও তিনি বলেছেন, কংগ্রেসকে অযথা বিরূপ করা ঠিক হয়নি। আবার কখনও দলের মধ্যে যথাযথ সম্মান না পেলে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন। একসময়ের নিঃশর্ত আনুগত্যের জায়গা থেকে এই পরিবর্তিত অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

তবে, অনুব্রত মন্ডল ও কাজল শেখের দ্বন্দ্ব বহুদিনের। যে দ্বন্দ্বের সমাধান করতে পারেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আদরের কেষ্টকে বুঝিয়েও অনুব্রতর সঙ্গে এক জায়গায় বসাতে পারেননি। এবার কাজল কি করবেন? এবার কি তিনি একসাথে মিলে মিশে থাকবেন? নাকি বিরোধিতা বহাল থাকবে? তাই এখন দেখার।

