Form 6
Bengal Liberty: ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ব্যবহৃত ‘ফর্ম ৬’ (Form 6)-এর অনলাইন সংস্করণে একটি নতুন ডিক্লেয়ারেশন বা ঘোষণা অংশ যুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। এর ফলে এখন থেকে নতুন ভোটারদের তাঁদের মা-বাবার বর্তমান ভোটার পরিচিতি বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR)-এর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের বিষয়টি বিস্তারিত জানাতে হবে। কমিশনের এই পদক্ষেপ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক।

কী পরিবর্তন আনা হয়েছে? (Form 6)
নির্বাচন কমিশনের ‘ECINET’ পোর্টালে অনলাইন ফর্ম ৬ পূরণের সময় ‘J’ এবং ‘K’ অংশের মাঝে একটি নতুন ডিক্লেয়ারেশন বক্স যুক্ত হয়েছে। সেখানে নতুন আবেদনকারীকে তিনটি অপশনের মধ্যে একটি বেছে নিতে বলা হচ্ছে:
১. আবেদনকারীর নিজের নাম সর্বশেষ ভোটার তালিকায় আছে কি না।
২. আবেদনকারীর মা-বাবা বা দাদা-দাদি/নানা-নানির নাম ভোটার তালিকায় আছে কি না।
৩. ওপরের কোনোটির সঙ্গেই নাম না থাকা।
প্রথম দুটি অপশন বেছে নিলে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্র, বুথ নম্বর এবং ভোটার তালিকায় থাকা মা-বাবার নাম ও সিরিয়াল নম্বর প্রদান করতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন ফর্মে এই অংশটি পূরণ না করলে পরবর্তী ধাপে এগোনো যাচ্ছে না, অর্থাৎ এটি কার্যত বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হয়েছে।

বিতর্কের কারণ (Form 6)
মূল ‘ফর্ম ৬’-এর আইনি কাঠামোতে কোনো সংশোধন না করেই অনলাইন সংস্করণে এই নতুন অংশটি যুক্ত করায় প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ফর্মের কোনো পরিবর্তন শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে করতে পারে, যেখানে নির্বাচন কমিশনের এককভাবে কোনো পরিবর্তন করার আইনি ক্ষমতা নেই।
ইতিমধ্যেই ১০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে SIR প্রক্রিয়ায় ৫.৫৮ কোটি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। নতুন এই নিয়ম চালু হওয়ার ফলে, যাঁদের মা-বাবার নাম তালিকা থেকে মুছে গেছে, তাঁদের ছেলেমেয়েদের নতুন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়ায় কী ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আশঙ্কা। যদিও সশরীরে জমা দেওয়ার জন্য ডাউনলোডযোগ্য ফর্ম ৬-এ এই নতুন অংশটি নেই, কিন্তু অনলাইন পোর্টালে এই বাধ্যতামূলক তথ্য চাওয়া নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞ ও বিরোধী রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

