Anubrata Mondal
Bengal Liberty : প্রায় ৫ বছর আগের একটি আর্থিক প্রতারণা ও রাজনৈতিক নির্যাতনের অভিযোগে বীরভূমের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের স্বস্তি বাড়াল কলকাতা হাইকোর্ট (Anubrata Mondal)। সোমবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের একক বেঞ্চ ২০২১ সালের এই পুরনো মামলায় অনুব্রতের আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, দীর্ঘসূত্রিতার শিকার এই ঘটনায় বর্তমানে অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কোনো আইনি প্রয়োজন নেই। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগে দায়ের হওয়া এই মামলায় ৩০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ থাকলেও, নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে আপাতত বড় ধরণের গ্রেফতারির হাত থেকে রেহাই পেলেন অনুব্রত (Anubrata Mondal)।

কি কারণে অভিযুক্ত অনুব্রত (Anubrata Mondal)
ঘটনার সূত্রপাত বোলপুরের বাসিন্দা শুভেন্দু মণ্ডলের একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে। তাঁর দাবি ছিল, ২০২১ সালের রাজনৈতিক উত্তপ্ত আবহে অনুব্রত মণ্ডল ও তাঁর অনুগামীরা তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন এবং তিনি বিজেপি সমর্থক হওয়ার কারণে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারও চালানো হয়েছিল। সেই সময় স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশ তাঁর অভিযোগে কর্ণপাত করেনি বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের হাওয়া লাগতেই ফের ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের শরণাপন্ন হন ওই ব্যক্তি এবং ২০২৬ সালে এসে নতুন করে এফআইআর দায়ের হয়।

আদালতের রায় (Anubrata Mondal)
নিম্ন আদালতে জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর গত ১৪ জুলাই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অনুব্রত। শুনানিতে অনুব্রতের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য সওয়াল করেন যে, ২০২১ সালের ঘটনার ৫ বছর পর ২০২৬ সালে হঠাৎ এফআইআর দায়ের করা স্রেফ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই নয়। উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতির বেঞ্চ হেফাজতের আবেদন খারিজ করলেও কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। আদালত জানিয়েছে, আগামী ১০ দিনের মধ্যেই তদন্তকারী অফিসারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে অনুব্রতকে এবং পরবর্তীতে তলব করা মাত্রই হাজিরা দিতে হবে। হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে তদন্তের প্রক্রিয়া খোলা থাকলেও আপাতত গ্রেফতারির খাঁড়া থেকে রেহাই পেয়ে গেলেন বীরভূমের কেষ্ট।

আরও পড়ুন :
Abhishek Banerjee : অভিষেকের ‘মেগা কোভিড টেস্টিং ড্রাইভ’ নিয়ে থানায় অভিযোগ

