Dharmatala Chaos
Bengal Liberty : ধর্মতলায় অশান্তির ঘটনা নিয়ে শনিবার বিধানসভাতে বিবৃতি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Dharmatala Chaos)। গণ্ডগোল পাকানোর নেপথ্যে থাকা পাঁচ ‘গুন্ডার’ নাম উল্লেখ করেছিলেন তিনি। তাঁদের মধ্যে অন্যতম মহম্মদ আফরোজকে শনিবারই গ্রেফতার করে পুলিশ। তারপর আজ, সোমবার আখরোজ, খালেদ রোজা সহ ৫ জন অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করছেন পুলিশ। তাঁদের প্রত্যেককে খালি পায়ে হাঁটাল ঘটনাস্থলে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ধর্মতলা অশান্তি-কাণ্ডে মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের একজনও পড়ুয়া নয়। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট সহ সরাসরি তাণ্ডবের ঘটনায় যুক্ত বলে দাবি পুলিশের (Dharmatala Chaos)।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ধৃত আফরোজের পরিচয় ‘টিম মাফিয়া’ (Dharmatala Chaos)
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মহম্মদ আফরোজ মেটিয়াবুরুজ এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী হিসেবেই পরিচিত। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে একাধিক তৃণমূল নেতার ছবি রয়েছে। এছাড়াও তৃণমূলের দলীয় পতাকা হাতে মিছিলে অংশ নেওয়া এবং ভোটের সময় মেটিয়াবুরুজের বর্তমান বিধায়ক আবদুল খালেকের হয়ে প্রচার করতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। পাশাপশি, আফরোজের বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে বন্দুক হাতে একাধিক ছবি, ভিডিও ও রিলস পাওয়া গিয়েছে। যদিও ওই বন্দুকগুলি আসল না নকল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি, তাঁর পোস্ট করা একাধিক ছবি ও ভিডিওতে নিজেদের ‘মাফিয়া গ্যাং’ এবং ‘টিম মাফিয়া’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

চিহ্নিত একাধিক ব্যক্তি (Dharmatala Chaos)
শিক্ষায় দুর্নীতি ও নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে শুক্রবার ধর্মতলায় ছাত্র-যুবদের মিছিলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অশান্তির সৃষ্টি হয়। বিকেলের পর থেকেই ডোরিনা ক্রসিং রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পুলিশের উপর হামলার চেষ্টা এবং সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া বার্তা দিয়ে জানান, দোষীদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। তিনি জানান,” যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁরা জামাতি, মৌলবাদী।” সেই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। শনিবার বিধানসভায় ধর্মতলা কাণ্ড নিয়ে বিবৃতি দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনায় জড়িত ৭০ জনকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁর দাবি, চিহ্নিতদের কেউই পড়ুয়া বা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র সদস্য নন এবং নিট আন্দোলনের সঙ্গেও তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই। অশান্তির নেপথ্যে থাকা ৫ ‘গুন্ডা’র নামও প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ধর্মতলার ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট থানায় ৬টি এবং এন্টালি থানায় একটি, মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে অশান্তি ছড়ানো, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে মামলাগুলিতে গুন্ডাদমন আইনও যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও এবং অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখে বাকি অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের প্রক্রিয়াও জোরকদমে চলছে।
আরও পড়ুন :
Dharmatala Chaos : ধর্মতলা অশান্তি-কাণ্ডে জোরদার ধরপাকড়, গ্রেফতার বেড়ে ১৬

