Russia Ukraine
Bengal Liberty
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ১,৬০০ দিনেরও বেশি সময় অতিক্রম(Russia Ukraine) হয়ে গেলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। সময় যত গড়াচ্ছে, যুদ্ধের ভয়াবহতা তত বেশি করে প্রকাশ্যে আসছে। তবে এবার যে অভিযোগ সামনে এসেছে, তা অতীতের সমস্ত নৃশংসতাকে ছাপিয়ে গেছে। ইউক্রেন রাষ্ট্রসংঘের কাছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে জঘন্য যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছে। অভিযোগ, রাশিয়ার জেলগুলিতে বন্দিদের ওপর অত্যন্ত মর্মান্তিক ও নিকৃষ্ট যৌন অত্যাচার চালানো হচ্ছে। এমনকি জেলের রক্ষীরাই এই ভয়ংকর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে জানা যাচ্ছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অমানবিকতার ছায়া(Russia Ukraine)
এই ঘটনা সামনে আসতেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াল স্মৃতি নতুন করে ফিরে আসছে। সে সময়েও বন্দিদের ওপর এভাবেই অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। অতীতে বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক আদালতের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়লেও রাশিয়ার মনোভাবের যে কোনো পরিবর্তন হয়নি, তা স্পষ্ট। যথারীতি এবারও এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে রুশ প্রশাসন। তবে রাষ্ট্রসংঘের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হবে। কিন্তু কত দ্রুত এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে রাষ্ট্রসংঘের তদন্তকারী ও ইউক্রেনের আইনজীবীরা জানান “২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই নির্যাতন চালিয়ে আসছে রাশিয়া। সেরহি ওয়াচুক নামে ইউক্রেনের এক সেনাসদস্য প্রায় দুই বছর রুশ বন্দিদশায় ছিলেন। তাঁর বয়ান অনুযায়ী, বন্দি থাকাকালীন তাঁর গোপনাঙ্গে বোতল ও লাঠি জোর করে প্রবেশ করানো হতো। ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ কেটে ফেলার হুমকিও দেওয়া হতো। সেরহির কথায়, ‘ওদের উদ্দেশ্য শুধু আমাকে শারীরিকভাবে কষ্ট দেওয়া ছিল না, বরং মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া ছিল।'”
কেন বিশ্ব নীরব(Russia Ukraine)
যুদ্ধ চলাকালীন রাষ্ট্রসংঘে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে এই ধরনের যৌন নির্যাতনের প্রায় ৩১০টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এর মধ্যে ২৮০টি ঘটনাই পুরুষদের ওপর যৌন নির্যাতনের। এ ছাড়া ২৬ জন নারী এবং ৪ জন নাবালিকার ওপরও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, রাশিয়ার জেলগুলিতে বন্দিদের ওপর বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, যৌনাঙ্গ বিকৃত করা এবং গণধর্ষণ নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

নির্যাতিতদের বয়ান অনুযায়ী, তাঁদের যৌনাঙ্গে পুরনো সামরিক ফিল্ড টেলিফোনের তার পেঁচিয়ে কারারক্ষীরা হ্যান্ডেল ঘুরিয়ে বিদ্যুতের শক দিত। এই ভয়ংকর নির্যাতন চালানোর সময় রক্ষীরা হেসে বলত, “কল টু পুতিন”।
এই সব ঘটনার পর মানবিকতার অস্তিত্ব নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। রাশিয়াকে অনুধাবন করতে হবে যে বর্তমান বিশ্ব আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে নেই। যুদ্ধাপরাধের এই ঘটনাগুলিতে বিশ্বজুড়ে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।


