Abhishek Banerjee
Bengal Liberty
দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Abhishek Banerjee) কুকীর্তি যেন এখন সমার্থক হয়ে উঠেছে। গত ১৫ বছর ধরে আমতলা, মহেশতলাসহ গোটা এলাকায় একচ্ছত্র তৃণমূলের ক্ষমতার আস্ফালন দেখেছে সাধারণ মানুষ। যে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর কথা বলে একের পর এক নির্বাচনে জয় পেয়েছে তৃণমূল, সেই মডেল যে আসলে কতটা ফাঁপা ও ভিত্তিহীন, তা প্রকাশ্যে আনতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)। এবার তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রায় হাজার কোটি টাকার এক মেগা দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এনেছেন, যেখানে ৫২ বিঘা সরকারি লিজের জমি ব্যবহার করে নিজের সাম্রাজ্য বিস্তারের কথা বলা হয়েছে।

হাজার কোটির ‘মেগা’ দুর্নীতির শিখরে কালীঘাটের ‘যুবরাজ'(Abhishek Banerjee)
মঙ্গলবার অভিষেকের বিরুদ্ধে একটি ১২ পাতার অভিযোগপত্র প্রকাশ করেন অভিজিৎ দাস। সেই চিঠির ছত্রে ছত্রে উল্লেখ রয়েছে, এই হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির নেপথ্যে রয়েছেন স্বয়ং ‘যুবরাজ’।
অভিযোগকারীর দাবি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলার জিনজিরা এলাকায় যুব সম্প্রদায়ের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে প্রায় ১২.৫৮ একর বা ৫২ বিঘা জমি বরাদ্দ করা হয়েছিল। এই সরকারি জমিটি একসময় দেওয়া হয়েছিল ‘পি সি চন্দ্র’ সংস্থাকে। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাধ্যমে বেআইনিভাবে জমিটির হাতবদল ঘটে এবং তা চলে যায় ‘সৃজন গ্রুপ’-এর নিয়ন্ত্রণে।
শুধু তা-ই নয়, অভিযোগকারীর দাবি—ওই জমির ভেতরে থাকা ১১টি সরকারি সংরক্ষিত জলাশয় বেআইনিভাবে ভরাট করা হয়েছে। জাল বা ভুয়ো সরকারি নথির মাধ্যমে সেই জলাশয়গুলোকে ‘বাস্তু’ জমি দেখিয়ে, বেসরকারি ডেভেলপারের সহায়তায় ‘সৃজন রবি লজিস্টিক পার্ক’ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এর ফলে যেমন সরকারি রাজস্বের বিপুল ক্ষতি হয়েছে, তেমনি সরকারি সম্পত্তি ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যিক মুনাফা লুটেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সরকারি সম্পত্তি বেআইনি দখল(Abhishek Banerjee)
, প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস ও এই পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির যে অভিযোগ সামনে এসেছে, তা স্পষ্টতই ‘গুন্ডাদমন আইন’-এর আওতাভুক্ত। কারণ এই আইনের ২ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে—কোনো ব্যক্তি যদি প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস বা ক্ষতিসাধন করে, তবে তার বিরুদ্ধে এই আইন প্রয়োগ করা যাবে। অভিযোগপত্রের পাশাপাশি কিছু উপগ্রহ চিত্রও (Satellite Images) প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ২০১৬ সালের আগে ওই ৫২ বিঘা জমির মধ্যে ১১টি পুকুর ছিল। একাধিক উপগ্রহ চিত্র পর পর মেলালে স্পষ্ট বোঝা যায়, কীভাবে ১১টি পুকুর ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। আর এখান থেকেই গুন্ডাদমন বিলের অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের অপরাধের আঙুল উঠছে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে।

এই অভিযোগে শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, তৎকালীন জেলা শাসক (DM), মহকুমা শাসক (SDO)-সহ একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাব্লিউবিসিএস (WBCS) ও আইএএস (IAS) আধিকারিকের ভূমিকা নিয়েও তীব্র প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সরকারি জমি কীভাবে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হলো, তা নিয়ে দুর্নীতির গন্ধ পাচ্ছে বিজেপি নেতৃত্ব। এই হাজার কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের ঘটনা থেকেই স্পষ্ট, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি কোন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ইতিমধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ সুপারের কাছে এই অভিযোগপত্র জমা দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, এফআইআর (FIR) দায়ের এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ—সরকারি জমি দখল, সংরক্ষিত জলাশয় ধ্বংস, জাল নথির মাধ্যমে জমির শ্রেণি পরিবর্তন এবং সরকারি সম্পদকে বেসরকারি বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার—সব মিলিয়ে এটি রাজ্যের অন্যতম বৃহত্তম ভূমি দুর্নীতি।


