Bengal Liberty:
ঝাড়খণ্ডে বড় সাফল্য পেল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী। দীর্ঘ দুই দশক ধরে পলাতক মাওবাদী সংগঠনের শীর্ষ নেতা মিসির বেসরাকে ধানবাদ জেলার বারওয়াড্ডা থানা এলাকার মানিয়াডিহি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে আরও দুই মাওবাদী নেতাকেও আটক করেছে যৌথ বাহিনী। পুলিশের দাবি, মিসির বেসরা ছিলেন মাওবাদীদের পলিটব্যুরোর শেষ জীবিত সদস্য এবং সংগঠনের অন্যতম প্রধান অপারেশনাল কমান্ডার।

Misir Besra
৬৬ বছর বয়সি মিসির বেসরার মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকা। সংগঠনের ভেতরে তিনি ‘ভাস্কর’ ও ‘সাগর’ ছদ্মনামে পরিচিত ছিলেন। ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার হারলাডিহিতে তাঁর আদি বাড়ি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার নজর এড়িয়ে আত্মগোপন করেছিলেন।
Misir Besra

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খবর আসে পারশনাথ পাহাড় সংলগ্ন জঙ্গলে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে লুকিয়ে রয়েছেন মিসির। এরপর সিআরপিএফ, ধানবাদ ও গিরিডি পুলিশের যৌথ বাহিনী একটি বিশেষ অভিযান চালায়। রাত প্রায় ৯টা নাগাদ ধানবাদ-গিরিডি সীমান্তের টুন্ডি-মান্ডিয়ার জঙ্গল এলাকা থেকে পালানোর সময় তাঁকে ও তাঁর দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়।
সঙ্গে গ্রেফতার আরও দুই শীর্ষ মাওবাদীMisir Besra
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে একবার ঝাড়খণ্ডে গ্রেপ্তার হলেও ২০০৯ সালে বিহারের লখিসরাই আদালতে হাজিরা দিতে নিয়ে যাওয়ার সময় মাওবাদী হামলার সুযোগ নিয়ে পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যান মিসির বেসরা। তারপর থেকেই তিনি পুনরায় আত্মগোপন করেন।

Misir Besra
অন্যদিকে, মিসির বেসরার ছেলে সিদ্ধার্থ জানিয়েছেন, বুধবার সকাল পর্যন্ত পুলিশ বা সিআরপিএফ-এর পক্ষ থেকে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি; সূত্র মারফত তিনি বাবার গ্রেফতারের খবর পান। সিদ্ধার্থ জানান, প্রায় ২০ বছর তিনি বাবাকে দেখেননি। সম্প্রতি পুলিশ তাঁদের বাড়িতে এসে বাবাকে আত্মসমর্পণের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লেখার পরামর্শ দিয়েছিল। তবে এতদিন পর বাবা জীবিত আছেন জেনে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। পুলিশের মতে, এই গ্রেফতার মাওবাদী সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর এক বিরাট ধাক্কা।
আরও পড়ুনঃ গুরু হলেন আলোকবর্তিকা, অন্ধকারময় পথে আলোর দিশা দেখান! সকলকে গুরু পূর্ণিমার শুভেচ্ছা

