Bengal Liberty
ভারত-চিন সীমান্তে ফের বাড়ছে(India China) উত্তেজনা। লাদাখ এবং অরুণাচল প্রদেশ সংলগ্ন একাধিক বিমানঘাঁটিতে অন্তত ১২টি অত্যাধুনিক J-20 ‘মাইটি ড্রাগন’ (Mighty Dragon) স্টিলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে চিন। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা উপগ্রহ চিত্রে সেই সামরিক সক্রিয়তার প্রমাণ মিলতেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নয়াদিল্লিতে। সীমান্তে পরিকাঠামো জোরদারের পাশাপাশি এই ধরনের যুদ্ধবিমান মোতায়েনকে বেজিংয়ের কৌশলগত বার্তা বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

উপগ্রহ চিত্রে কী দেখা গেল(India China)
সাম্প্রতিক উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, লাদাখের বিপরীতে হোটান ও নগারি-গুনসা বিমানঘাঁটি এবং পূর্ব সেক্টরে অরুণাচল সীমান্তের কাছে একাধিক ঘাঁটিতে J-20 যুদ্ধবিমান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রানওয়ে সম্প্রসারণ, সুরক্ষিত হ্যাঙ্গার নির্মাণ, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং জ্বালানি সংরক্ষণের পরিকাঠামোও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বিপুলসংখ্যক পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ যুদ্ধবিমান সীমান্তের এত কাছাকাছি মোতায়েন করা কেবল কোনো সাময়িক মহড়ার অংশ নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রস্তুতির স্পষ্ট ইঙ্গিত।

ভারতের জন্য কতটা উদ্বেগের(India China)
২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC)-তে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে ভারত ও চিন—দুই দেশই। ভারতও লাদাখ এবং উত্তর-পূর্ব সীমান্তে রাফাল, সুখোই-৩০ এমকেআই (Su-30MKI), উন্নত রাডার এবং S-400 ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করে রেখে দিয়েছে।তা সত্ত্বেও সীমান্তের এত কাছে চিনের J-20 মোতায়েন করা ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এর ফলে চিনা বিমানবাহিনী খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সীমান্ত এলাকায় আকাশপথে শক্তিমত্তা প্রদর্শন বা বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে।
কূটনৈতিক সম্পর্কেও বাড়ছে চাপ(India China)
একদিকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে বিভিন্ন দফায় আলোচনা চললেও, অন্যদিকে সীমান্তে পরিকাঠামো নির্মাণ ও অত্যাধুনিক অস্ত্র মোতায়েন অব্যাহত রেখেছে বেজিং। ফলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টার মধ্যেও অবিশ্বাসের পরিবেশ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে সীমান্ত পরিস্থিতি যাতে অনিয়ন্ত্রিত না হয়ে পড়ে, সেদিকে নজর রেখে ভারতকেও সীমান্ত নজরদারি, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দ্রুত জবাব দেওয়ার ক্ষমতা আরও জোরদার করতে হবে। বর্তমানে পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী।


