India Saffron Jersey
Bengal Liberty
আগামী মাস থেকেই নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামে(India Saffron Jersey) বসতে চলেছে ২০২৬ হকি বিশ্বকাপের আসর। তা নিয়েই ক্রীড়াজগতে নতুন করে উন্মাদনা শুরু হয়েছে। তবে এরই মধ্যে দানা বেঁধেছে নতুন এক বিতর্ক—ভারতীয় পুরুষ ও মহিলা হকি দলের জার্সির রঙ নীল থেকে বদলে করা হয়েছে গেরুয়া।জার্সির রঙ বদল নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র সমালোচনা। জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক বীরেন রাসকিনহাও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এবার এই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছে হকি ফেডারেশন।

হকি ফেডারেশনের ব্যাখ্যা(India Saffron Jersey)
“হকির অ্যাস্ট্রোটার্ফ বা মাঠ সাধারণত নীল রঙেরই হয়। ফলে নীল জার্সিতে খেলোয়াড়দের মাঠের সঙ্গে আলাদা করে চেনা কঠিন হয়ে যায়। তাই খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে আলোচনার পরেই জার্সির রঙ বদলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” হকি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, বেশ কয়েকটি রঙের মধ্যে হলুদ এবং গেরুয়ার সপক্ষেই বেশি ভোট পড়েছিল। দীর্ঘ আলোচনার পর গেরুয়া রঙকেই বেছে নেওয়া হয়, কারণ এটি দেশের জাতীয় পতাকায় রয়েছে এবং সাহস, ত্যাগ ও জাতীয় গর্বের প্রতীক। এর আগেও যে ২০১৪ এবং ২০১৮ বিশ্বকাপের সময় জার্সির রঙ বদলে যথাক্রমে হলুদ ও আকাশি করা হয়েছিল, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে ফেডারেশন।
অহেতুক বিতর্কের সৃষ্টি(India Saffron Jersey)
সব বিতর্কের যৌক্তিকতা থাকে না, আর এই জার্সির রঙ সংক্রান্ত বিতর্ক যেন তারই এক অনন্য উদাহরণ। এর আগে ২০১৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে ভারতীয় দল নীল-গেরুয়ার মিশ্রণে তৈরি অ্যাওয়ে জার্সি পরে মাঠে নেমেছিল। তখনও বিষয়টি নিয়ে অযথা জলঘোলা করা হয়েছিল। এবারও যেন ঠিক একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। সাধারণ ক্রীড়াপ্রেমীদের মতে—জার্সির রঙ যাই হোক না কেন, তা দিয়ে মাঠের ফলাফলে কোনো পার্থক্য তৈরি হয় না।

ভারত জিতলে সব দেশবাসীই সমানভাবে আনন্দ পান। তবে বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে দলকে শুভেচ্ছা না জানিয়ে কেন এই নেতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। সমালোচকদের কটাক্ষ করে অনেকেই বলছেন—এদের হয়তো স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়েও আপত্তি থাকবে, কারণ তিনিও গেরুয়া বস্ত্র ধারণ করেই আমেরিকার শিকাগোতে ভারতবর্ষের মুখ উজ্জ্বল করেছিলেন এবং তাকেও কম সমালোচনা সহ্য করতে হয়নি। তাই সব বিতর্ককে দূরে সরিয়ে রেখে বিশ্বকাপে ভারতীয় দল কেমন পারফর্ম করে, এখন সেটাই দেখার।


