Janatar Darbar
Bengal Liberty : মুসলিম সম্প্রদায়কে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম বড় ভোটব্যাঙ্ক বলে রাজনৈতিক মহলে বহুদিন ধরেই আলোচনা চলে আসছে (Janatar Darbar)। সেই বিতর্কের আবহেই এবার জনতার দরবারে উঠে এল আরও বিস্ফোরক অভিযোগ। মালদার একদল বাসিন্দার দাবি, সুজাপুরের তৃণমূল বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিনের মদতেই ভোটব্যাঙ্ক বাড়ানোর উদ্দেশ্যে হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করা হতো। এমনকি ধর্ম পরিবর্তনে রাজি না হলে অত্যাচার, মারধর করে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। এই সমস্ত অভিযোগের নথি ও প্রমাণ নিয়ে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে হাজির হন অভিযোগকারীরা (Janatar Darbar)।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য (Janatar Darbar)
অভিযোগকারীদের দাবি, মালদা জেলার কালিয়াচক থানার কিসমত বদনপুর গ্রামের দুই ভাইকে চার বছর আগে নানা প্রলোভন, প্রতিশ্রুতি এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁরা। পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সিবিআই প্রাথমিক তদন্ত করে আদালতে রিপোর্ট জমা দেয়। অভিযোগকারীদের দাবি, সেই রিপোর্টে জোর করে ধর্মান্তরের বিষয়টি উঠে আসে। এরপর আদালতের নির্দেশে সিবিআই এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি এনআইএ-র একটি তদন্ত রিপোর্টেও ধর্মান্তরিত ব্যক্তিদের আর্থিক সুবিধা এবং বাড়ি নির্মাণে অর্থ দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে বলে তাঁদের দাবি। যদিও সেই সংক্রান্ত মামলার জেরে বাড়ির কাজ বর্তমানে স্থগিত রয়েছে বলেও জানান তাঁরা।

ঘটনার প্রমাণ নিয়ে জনতার দরবারে (Janatar Darbar)
জনতার দরবারে এসে অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, এই ঘটনায় সুজাপুরের তৃণমূল বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিনের ভূমিকা ছিল। তাঁদের অভিযোগ, দুই ভাইকে তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে সরিয়ে মুসলিম পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। এখন তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন, ওই দুই ব্যক্তিকে আবার তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। শুধু কিসমত বদনপুর নয়, অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে। তাঁদের দাবি, সম্প্রতি বৈষ্ণবনগর থানার এলাকায় এক বিবাহিত হিন্দু মহিলাকে মুসলিম যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়। আদালতের হস্তক্ষেপে ওই মহিলাকে আপাতত তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানান। তাঁদের বক্তব্য, ভোটব্যাঙ্ক ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ধর্মান্তরের চেষ্টা চলছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সেই বিষয়ে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

ধর্মান্তরকরণে রাজি না হওয়ার ফল মৃত্যু? (Janatar Darbar)
এছাড়াও অভিযোগকারীরা আরও একটি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, ধর্মান্তরকরণে রাজি না হওয়ায় এক হিন্দু যুবককে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে মোথাবাড়ি থানার লকআপে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনা ধামাচাপা দিতে বিডিও স্বয়ং ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে গিয়েছিলেন বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন। ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানান অভিযোগকারীরা। বর্তমানে বিষয়টি সিআইডি (CID) তদন্ত করলেও, তদন্তে কোনো সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়নি বলে তাঁদের দাবি। এই সমস্ত বেআইনি ও নৃশংস কর্মকাণ্ডের দায় সুজাপুরের বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিনের ওপরই চাপিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের মতে, রাজ্যজুড়ে এই ধরনের চক্রান্ত চললেও বর্তমানে তাঁদের কাছে মালদার ঘটনার স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। সেই প্রমাণের ভিত্তিতেই অবিলম্বে এই অপকর্ম বন্ধের দাবি নিয়ে তাঁরা জনতার দরবারে উপস্থিত হয়েছেন। তবে অভিযোগকারীদের এই বক্তব্যের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসছে-রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য কি সাধারণ মানুষকে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে?
আরও পড়ুন :
Samik Bhattacharya : বাংলায় কেমিক্যাল পার্ক গড়ার দাবি, মুখ্যমন্ত্রীকে শমীকের চিঠি!

