Pankaj Dutta
Bengal Liberty : দিনের পর দিন থানায় ডেকে মমতার চ্যানেলে ডেকে মানসিক অত্যাচার করা হয়েছে পঙ্কজ দত্তকে। কিন্তু কে এই পঙ্কজ দত্ত (Pankaj Dutta)? তিনি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একজন প্রাক্তন আইজি এবং অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার, যিনি ২০১১ সালে অবসর গ্রহণ করেন। তারপর তিনি বিভিন্ন টেলিভিশন নিউজ চ্যানেলের টক শো ও বিতর্কে একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে আমন্ত্রিত থাকতেন। তবে তাঁর স্পষ্ট ও কাঁচিহীন মতামতের জন্য একরকম কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। তারপর বারাণসীতে একটি সেমিনারে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী ও পরিবার বারংবার অভিযোগ তুলেছেন, পূর্বতন তৃণমূল সরকার ও তাঁদের মদতপুষ্ট পুলিশ ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে। এমনকি তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বড়তলা থানার সামনে অগ্নিকে সাক্ষী রেখে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন ক্ষমতায় আসলে ‘হিসাব’ হবে। অবশেষে সুদে আসলে হিসাব মেলাচ্ছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জনতার দরবারে মৃত আইপিএস অফিসার পঙ্কজ দত্তের স্ত্রী তাঁর স্বামীর মৃত্যুর জন্য অভিযুক্ত সাংবাদিক থেকে শুরু করে পুলিশ অফিসার প্রত্যেককে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন (Pankaj Dutta)।

কী অনুরোধ জানালেন মৃতের স্ত্রী? (Pankaj Dutta)
বেঙ্গল লিবার্টির মুখোমুখি হয়ে পঙ্কজ দত্তের স্ত্রী বলে, “আর জি করের ঘটনার মতোই এবারও মুখ্যমন্ত্রী প্রাথমিক তদন্তে গাফিলতির ইঙ্গিত পেয়েই কয়েকজনকে সাসপেন্ড করেছেন। তবে ‘সাসপেনশনই শেষ শাস্তি নয়’, আমার বিশ্বাস। আমার স্বামীর মৃত্যুর পর নতুন তথ্যের ভিত্তিতে আমি লেকটাউন থানায় একটি নতুন এফআইআর দায়ের করেছি। কিন্তু সেই মামলার তদন্ত এখনও সঠিকভাবে এগোচ্ছে না। আমার অভিযোগ, শুধু নিম্নস্তরের নয়, উচ্চপদস্থ কিছু আধিকারিক, তৃণমূলের কয়েকজন নেতা এবং তাদের ঘনিষ্ঠ কিছু সংবাদমাধ্যম মিলে আমার স্বামীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে অন্যায়ভাবে অত্যাচার করেছে।” জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তিনি অভিযোগপত্র তুলে দেন। তারপর তিনি বলেন, “আমার বিশ্বাস, ‘স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করে’ এই মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করবেন। বিশেষ করে সাইবার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলি খতিয়ে দেখে যাতে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটাই আমার একমাত্র দাবি।”

প্রাক্তন আইপিএস অফিসারের মৃত্যুর পর কী বলেছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা? (Pankaj Dutta)
পঙ্কজ দত্তর অসুস্থতার পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করেছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা। এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছিলেন, ‘পঙ্কজ দত্তর হঠাৎ অসুস্থতার জন্য দায়ী রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনায় বিভিন্ন সময় সরব হয়েছেন পঙ্কজ দত্ত। পুলিশের বিভিন্ন তদন্তের গাফিলতি নিয়ে সমালোচনা করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন আইজি।’ তিনি আরও লেখেন, ‘সম্প্রতি আরজি করের ঘটনায় কলকাতা পুলিশের সমালোচনা করেছিলেন পঙ্কজ দত্ত। তারপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পঙ্কজ দত্তকে হেনস্থা করেন কলকাতা পুলিশের সিপি মনোজ ভার্মা। বড়তলা থানায় ডেকে দিনভর হেনস্থা করা হয় রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন আইজি-কে। তাঁর শারীরিক অবস্থার জন্য দায়ী কলকাতা পুলিশই। চূড়ান্ত মানসিক নির্যাতন করা হয় পঙ্কজ দত্তকে।’ তারপর বড়তলা থানায় তৎকালীন বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে থানার সামনে শান্তিপূর্ণ জমায়েত করেন। মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রতিজ্ঞা করেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার আসলে অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারদের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন তিনি।

ক্ষমতায় আসতেই ব্যবস্থা গ্রহণ শুভেন্দুর (Pankaj Dutta)
প্রাক্তন আইপিএস অফিসার পঙ্কজ দত্তের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার পঙ্কজ দত্তকে বড়তলা থানায় ডেকে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ ও হেনস্থা করা হয়। সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে জিজ্ঞাসাবাদ। তাঁকে থানায় চা তো দূরের কথা, জল পর্যন্ত খেতে দেওয়া হয়নি। আমি সেই সময় তৎকালীন বিধায়কদের নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলাম।” এর পরই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, “সেই সময়ের তদন্তকারী অফিসার (IO) সাধন দাসকে সাসপেন্ড করা হলো। ওই থানার আইসি (IC) ছিলেন সুবর্ণ দত্ত চৌধুরী, তাঁকেও সাসপেন্ড করলাম।”
মৃতের স্ত্রীর বক্তব্য, আইও এবং আইসি শাস্তির মুখোমুখি হলেও এখনও কোনো শাস্তি পায়নি মমতাপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলো। তাঁর স্বামীকে সংবাদ চ্যানেলে ডেকে এনেও মানসিক হেনস্থা করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট দাবি, জড়িত প্রত্যেককে শাস্তি পেতে হবে। তবে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে তিনি আশা করছেন, এত বছর পর অবশেষে পঙ্কজ বাবু সঠিক বিচার পাবেন।
আরও পড়ুন :
Abhishek Banerjee : কেম্যান দ্বীপেই অভিষেকের টাকার খনি! ২ লক্ষ কোটির উৎস কী?

