EPL
Bengal Liberty
ফিফা বিশ্বকাপ শেষ(EPL) হয়ে গেলেও ফুটবলের রোমাঞ্চকর দুনিয়া এখনো শেষ হয় যায়নি ২২ অগাস্ট থেকে শুরু হতে চলেছে ১৫০তম ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, লিভারপুল, চেলসি, ম্যানচেস্টার সিটি, আর্সেনালের জমজমাট দ্বৈরথের অপেক্ষাই গোটা বিশ্ব।
সবার নজরে আর্সেনাল(EPL)
২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে গুনার্স বলে বিখ্যাত আর্সেনাল এফসি দ্বিতীয়বারের জন্য প্রিমিয়ার লীগের সেরার শিরোপা অর্জন করেছিলো তাই এই মরসুমের শুরু থেকেই সবার নজর আর্সেনালের দিকেই থাকবেই এর পাশাপাশি ভিনিসিয়াস জুনিয়রের কে নিয়েও দল বদলের বাজার একদম চরমে।

ম্যানচেস্টার পারবে লীগ জিততে(EPL)
আর্সেনালের পাশাপাশি নজরে থাকবে ২০ বারের লীগ চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দিকে ২০১৩ এর পর থেকে আর ঘরোয়া লীগ জিততে পারেনি রেড ডেভিলসরা একাদিক কোচ, খেলোয়াড় ও বিতর্কের মাঝেই প্রাক্তন ইউনাইটেড মাইকেল ক্যারিকের হাতেই দলের ব্যাটন তুলে দেওয়ার পরেই আগের ছন্দে দেখা যাচ্ছিলো ম্যানচেস্টার কে। তাঁরা কি অবশেষে ১৩ বছরের কড়া খাটিয়ে লীগ জিততে পারবে সেইদিকেই থাকবে সমর্থকদের নজর।
সিটির ছন্দে ফেরার লড়াই(EPL)
এ ছাড়াও আরেক ম্যানচেস্টার মানে ম্যানচেস্টার সিটি পেপ গার্দিওলার অধ্যায়ের পর সিটির প্রধান কোচের দায়িত্বে এনজো মারেস্কা কে এই মরসুমের জন্য দেখা যাবে ম্যানচেস্টার সিটির সোনালী যুগ আবার ফেরে কি না সেই দিকেও থাকবে নজর। এ ছাড়াও দীর্য বহুবছর পর দ্বিতীয় ডিভিশনে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফিরছেন হাল সিটি সঙ্গে এপিএলের তাবড় তাবড় দলগুলির প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে এসেছে কভান্ট্রি সিটি তাই এবারের প্রিমিয়ার লীগের প্রতিযোগিতা এবারে জমজমাট হতে চলেছে তা বলায় বাহুল্য ফুটবল জ্বরে আবারো কাবু হবে গোটা বিশ্ব। এবার দেখে নেওয়া যাক ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের বর্ণময় ইতিহাস।

প্রিমিয়ার লীগ ফার্স্ট ডিভিশন(EPL)
ফুটবল লীগ ফার্স্ট ডিভিশন ১৮৮৮ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ইংলিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তর ছিল, যেখানে প্রেস্টন নর্থ এন্ডেরমতো প্রতিষ্ঠাতা ক্লাবগুলো ছিল এবং প্রিমিয়ার লীগ গঠিত হওয়ার পর এর সমাপ্তি ঘটে।১৮৮৮ সালের ১৭ই এপ্রিল, অ্যাস্টন ভিলার পরিচালক উইলিয়াম ম্যাকগ্রেগর কর্তৃক ম্যানচেস্টারের রয়্যাল হোটেলে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

মিডল্যান্ডস এবং উত্তর ইংল্যান্ডের ১২টি পেশাদার ক্লাব সেই সময় অনুষ্টিত হত ধীরে ধীরে প্রতিযোগিতা জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়ে আসতে আসতে আরও দল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। প্রেস্টন নর্থ এন্ড ১৮৮৮-৮৯ সালের উদ্বোধনী মৌসুমে একটিও ম্যাচ না হেরে চ্যাম্পিয়ন হয় এবং ‘দ্য ইনভিনসিবলস’ (অপরাজেয়) ডাকনাম অর্জন করে
বিবর্তন এবং সম্প্রসারণ(EPL)
১৮৯২ সালে দ্বিতীয় বিভাগটি যুক্ত করা হয়, যার ফলে মূল প্রতিযোগিতাটি প্রথম বিভাগে পরিণত হয়। সদস্যপদ ধীরে ধীরে প্রসারিত হয়ে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের ক্লাবগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন ১৮৯৩ সালে উলউইচ আর্সেনাল।
১৯৮১ সালে জয়ের জন্য তিন পয়েন্ট এবং ১৯৮৭ সালে প্লে-অফ চালু করা হয়।
প্রিমিয়ার লীগের সূচনা(EPL)
১৯৯২ সালে এফএ প্রিমিয়ার লিগ নামে এই লিগটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, অতঃপর ১৯৯২–৯৩ প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমের মাধ্যমে এই লিগটি যাত্রা শুরু করেছে। প্রিমিয়ার লিগের উক্ত মৌসুমে সর্বমোট বাইশটি ক্লাব দ্বৈত রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ করেছিল। ১৯৯২ সালের ১৫ই আগস্ট তারিখে শুরু হয়ে ১৯৯৩ সালের ১১ই মে তারিখে সম্পন্ন হওয়া উক্ত মৌসুমে প্রতিটি ক্লাব সর্বমোট ৪২টি ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছিল; যার মধ্যে ক্লাবগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে দুইটি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল।

৪২তম ম্যাচদিন শেষে ৮৪ পয়েন্ট অর্জন করে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ স্থান অধিকারী ক্লাব হিসেবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড প্রথম ক্লাব হিসেবে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয়লাভ করেছিল।অন্যদিকে, পয়েন্ট তালিকার সর্বনিম্ন পয়েন্ট অর্জনকারী ক্লাব হিসেবে নটিংহ্যাম ফরেস্ট প্রথম ক্লাব হিসেবে প্রিমিয়ার লিগ হতে ইএফএল চ্যাম্পিয়নশিপে
১৯৯২–৯৩ মৌসুমে নটিংহ্যাম ফরেস্টের ইংরেজ আক্রমণভাগের খেলোয়াড় টেডি শেরিংহ্যাম ২২ গোল করে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ গোলদাতার পুরস্কার জয়লাভ করেছিলেন। প্রথম প্রিমিয়ারশিপ গোল করেন ব্রায়ান ডিন শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে, যে খেলায় তার ২–১ গোলে জয়ী হয়। ঘরোয়া লিগে দলগুলোর খেলার সংখ্যা কমাতে ফিফার চাপের কারণে ১৯৯৫ সালে দলের সংখ্যা কমিয়ে ২০ করা হয় যখন ৪টি দলকে প্রথম বিভাগে নামিয়ে দেয়া হয় ও মাত্র ২টি দলকে প্রিমিয়ার লিগে উন্নীত করা হয়।
২০০৬ সালের ৮ জুন ফিফা সব ইতালির সিরি এ ও স্পেনের লা লিগা সহ প্রধান ইউরোপীয়ান লিগগুলিকে ২০০৭-০৮ মৌসুমে ১৮টি দলে কমিয়ে আনতে অনুরোধ করে। প্রিমিয়ার লিগ দলের সংখ্যা কমানোর জন্য ফিফার প্রস্তাবের বিরোধিতা করে।ফেব্রুয়ারি ১২, ২০০৭ তারিখ থেকে প্রিমিয়ার লিগের নাম কেবল ‘প্রিমিয়ার লিগ’ থেকে পরিবর্তন করে ‘এফএ প্রিমিয়ার লিগ’ করা হয়েছে
বাণিজ্যিক সাফল্য(EPL)
স্কাই স্পোর্টসসহ বিভিন্ন বড় সম্প্রচার মাধ্যমের সাথে চুক্তি লিগটিকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করে তোলে। অর্থনৈতিক উন্নতির ফলে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় ও কোচরা ইংল্যান্ডে আসতে শুরু করেন।আর্সেনাল, চেলসি, এভারটন, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও টটেনহ্যাম হটস্পার—এই ৬টি ক্লাব শুরু থেকেই প্রিমিয়ার লিগে খেলে আসছে এবং কখনো অবনমিত হয়নি।এবার দেখার নতুন রূপে নতুন সাজে আরও কতটা জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারে প্রিমিয়ার লীগ?

