BJP Nadia
Bengal Liberty
নদিয়া জেলা পরিষদের রাজনীতির অলিন্দে নজিরবিহীন ক্ষমতার উলটপুরাণ (BJP Nadia)। মাত্র ৬টি আসন সম্বলিত ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দখল করে নিল ৫২ আসন বিশিষ্ট নদিয়া জেলা পরিষদ। তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও একাধিক সদস্যের ‘বিবেক ভোটে’ ভর করে বোর্ড গঠন করল গেরুয়া শিবির। নতুন সভাধিপতি হিসেবে নির্বাচিত হলেন বিজেপির প্রণতি বিশ্বাস।
রাজনৈতিক সূত্রে খবর, ঘটনার সূত্রপাত তৃণমূলের অন্দরমহলের তীব্র মতবিরোধকে কেন্দ্র করে। রাজ্যের শাসকদল ক্ষমতায় থাকাকালীনই তৃণমূলের একটি গোষ্ঠী জেলা সভাপতি মহুয়া মৈত্র ঘনিষ্ঠ তৎকালীন সভাধিপতি সুলতানা মীরের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে। সেই অনাস্থা প্রস্তাবে ৩১-০ ভোটে হেরে যান সুলতানা মীর। এর পর প্রশাসনিক নিয়ম মেনে জেলা পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয় ও তলবি সভা ডাকা হয়।

নদিয়ায় ক্ষমতার পালাবদল
নির্ধারিত তলবি সভায় মোট ৩১ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিজেপির ১৬ জন সদস্য এবং তৃণমূলের ১৫ জন। ৫২ আসনের জেলা পরিষদে বিজেপির নির্বাচিত সদস্য সংখ্যা ছিল মাত্র ৬। কিন্তু ভোটাভুটির এই মঞ্চে তৃণমূলের একাংশের সমর্থনের পাশাপাশি দলীয় সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যায়। ওবিসি সংরক্ষিত এই আসনে বিজেপির প্রার্থী প্রণতি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অন্য কোনো দল বা পক্ষ প্রার্থী না দেওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী বলে ঘোষিত হয় বিজেপি বোর্ড।

দায়িত্ব গ্রহণের পর আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে নতুন সভাধিপতি প্রণতি বিশ্বাস একে “সম্মিলিত জয়” বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “এই বিজয় শুধু আমার একার নয়, এটি আমাদের সবার জয়।” জেলা পরিষদে অতীতে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, “দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ পঞ্চায়েত ব্যবস্থা গঠনে আমাদের বোর্ড সর্বোচ্চ জোর দেবে। অতীতে অনিয়মের যে অভিযোগ উঠেছে, তা দূর করে সুশাসন কায়েম করাই প্রধান লক্ষ্য।”

বিবেক ভোট ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ সংক্রান্ত প্রশ্নে প্রণতি দেবী জানান, একাধিক সদস্যের বিবেক ভোটে এই সমর্থন মিলেছে, যেখানে ভোটাধিকারের স্বচ্ছতা স্পষ্ট। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কাজ ও দুর্নীতির তদন্তের বিষয়ে তিনি জানান, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য ও জেলা সভাপতি এবং স্থানীয় বিধায়ক-সংসদদের সাথে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নবগঠিত বোর্ডের মূল অগ্রাধিকার হবে গ্রামীণ এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও জনস্বার্থের প্রকল্প দ্রুত রূপায়ন করা।
নদিয়া জেলা পরিষদে উলটপুরাণ
অন্যদিকে, এই নাটকীয় পরিবর্তন নিয়ে বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার তৃণমূলকে তীব্র নিশানা করেছেন। তিনি জানান, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও কুশাসনের প্রতি অসন্তোষই এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল কারণ। সাংসদের কথায়, “বিজেপি শুরু থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং স্বচ্ছ প্রশাসনের পক্ষে ছিল। দলের প্রতিনিধিরা ‘বিবেক ভোট’-এর জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরাই দুর্নীতিমুক্ত শাসনের স্বার্থে এগিয়ে এসেছেন।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক রং না দেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর “সবকা সাথ, সবকা বিকাশ” নীতিকে পাথেয় করেই নদিয়াকে হিংসামুক্ত ও উন্নত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে বিজেপি কাজ করে যাবে।

