School Students
Bengal Liberty
দুর্গাপুরে টাকার লোভ দেখিয়ে স্কুলপড়ুয়াদের রক্ত নেওয়া এবং সেই রক্ত ও প্লাজমা চড়া দামে পাচারের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে (Durgapur School Student)। সূত্রের খবর, একটি বেসরকারি হাসপাতালে অল্প টাকার বিনিময়ে পড়ুয়াদের কাছ থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হচ্ছিল। পাশাপাশি, নাবালকদেরও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। স্কুলের অধ্যক্ষের দাবি, দুর্গাপুরের একটি নামী হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে পড়ুয়াদের রক্ত দিতে বলা হয়। প্রত্যেক পড়ুয়াকে প্রায় ৩০০ টাকা করে দেওয়া হত বলে দাবি।

পাশাপাশি, কোনও পড়ুয়া নতুন কাউকে রক্ত দিতে নিয়ে গেলে তাকে ১০০ টাকা কমিশন দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। বাইরে থাকা এক মধ্যস্থতাকারী এই প্রক্রিয়ায় আরও বেশি টাকা পেতেন বলেও দাবি স্কুল কর্তৃপক্ষের। তাঁর অভিযোগ, পড়ুয়ারা নাবালক হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের বয়স যাচাই করা হয়নি। আধার কার্ড পরীক্ষা করে তাঁরা ১৮ বছর পূর্ণ করেছে কি না, তা দেখার ক্ষেত্রেও গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।

বিষয়টি জানাজানি হতেই অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষও ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর শুরু করেছে। এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে নাবালক পড়ুয়াদের রক্ত নেওয়া হল এবং সেই রক্ত কোথায় ব্যবহার বা পাচার করা হয়েছে? উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই রাজ্যের বিভিন্ন বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কে স্বাস্থ্য দফতরের অভিযান চালানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের নেতৃত্বেও নজরদারি ও অভিযান চলেছে। তার মধ্যেই দুর্গাপুরে পড়ুয়াদের রক্ত নেওয়া ও পাচারের এই অভিযোগ সামনে এসেছে।

দুর্গাপুরে রক্ত বিক্রির চক্রের পর্দাফাঁস Durgapur School Student
ছাত্রদের রক্ত ও প্লাজমা ৩০০ টাকার বিনিময়ে চড়া দামে বিক্রি হত। দুর্গাপুর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর স্কুলের ছাত্রদের থেকে রক্ত নিয়ে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। গোপন সূত্রে বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপালের কাছে খবর পৌঁছাতেই তিনি জানতে পারেন, একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্কুল ছাত্রদের এই চক্রে জড়িয়ে ফেলা হয়। রক্ত প্লাজমা চড়া দামে পাচার হচ্ছে। হতবাক পড়ুয়াদের অভিভাবকরা।

বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপালের জানিয়েছেন, ” গোপন সূত্রে জানতে পারি যে দুর্গাপুরে একটি নামকরা হসপিটালে আমাদের স্কুলের ছাত্ররা ব্লাড দিচ্ছে। বাচ্চারা আন্ডার এজে, গার্জিয়ানের সঙ্গে কথা বলেছি, গার্জিয়ানরা সবাই অবাক এরকম আন্ডার এজের বাচ্চা ওরা, অভিভাবকরা জানে না এইসব কথা। বাচ্চাদের যখন ডাকা হয়, তখন জানতে পারি প্রত্যেকটা বাচ্চাকে তিনশো টাকা করে দেওয়া হয়েছে রক্তের বিনিময়ে। এমনকি ওরা যদি আবার কোনো বাচ্চাকে নিয়ে যায় তাদের একশো টাকা কমিশন দেওয়া হয়। এবং যে ছেলেটি গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে গ্রুপ বানাচ্ছে, সে নাকি প্রত্যেকেও বেশি টাকা পায়, প্রায় দু হাজার টাকা করে পায়। এখন প্রশ্ন নামকরা হসপিটাল, অথচ কেউ একটুখানি আধার কার্ড না দেখে কেন রক্ত নেবে ? ”
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই ব্লাড ব্যাঙ্কগুলোতে অভিযান চলেছিল। ঘটনা প্রসঙ্গে, দুর্গাপুর পূর্ব বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর ব্যানার্জী জানিয়েছেন, ” তীব্র নিন্দা করছি। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে। যারা এই ধরণের চক্র চালাচ্ছে, তাদের লাইসেন্স ক্যানসেল করা উচিত। এর নেপথ্যে কে বা কারা জড়িত, তা অবিলম্বে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”

