Naushad Siddiqui
Bengal Liberty:
রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মসজিদের মাইক খুলে নেওয়া বা অপসারণের অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজিপিকে চিঠি দিয়েছেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। বুধবার প্রকাশ্যে আসা ওই চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন জেলা থেকে এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে যে স্থানীয় পুলিশ কোনও লিখিত আইনি নোটিস ছাড়াই মসজিদের মাইক খুলে নেওয়া বা অপসারণের জন্য মসজিদ কমিটির সদস্যদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। এই ঘটনার কারণ জানতে চেয়ে ডিজিপির কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তিনি।

Naushad Siddiqui
চিঠিতে নওশাদ সিদ্দিকি উল্লেখ করেছেন, অতীতে আদালতের নির্দেশ এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইন মেনে মসজিদের মাইকের শব্দসীমা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে যদি কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী যথাযথ নোটিস, শুনানির সুযোগ এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কোনও অবস্থাতেই মৌখিক নির্দেশ বা চাপ প্রয়োগ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা উচিত নয় বলেও তিনি দাবি করেছেন।
Naushad Siddiqui
বিধায়কের বক্তব্য, পুলিশের এই ধরনের আচরণ সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তিনি ডিজিপির কাছে জানতে চেয়েছেন, এ ধরনের কোনও নির্দেশ পুলিশ সদর দফতর থেকে জারি করা হয়েছে কি না। যদি হয়ে থাকে, তবে সেই নির্দেশের অনুলিপি প্রকাশ করারও আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি, যদি কোনও পুলিশ আধিকারিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলেছেন।

পুলিশের ভূমিকার ব্যাখ্যা চেয়ে তদন্তের দাবি নওশাদ সিদ্দিকির
ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে একটি সুস্পষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) প্রণয়নেরও প্রস্তাব দিয়েছেন নওশাদ সিদ্দিকি। তাঁর মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত বিষয়ে আইনসম্মত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে অযথা বিভ্রান্তি এবং সামাজিক অশান্তির আশঙ্কা অনেকটাই কমবে।
Naushad Siddiqui
চিঠিটি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করে নওশাদ সিদ্দিকি সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, এই বিষয়ে কেউ যেন কোনও প্ররোচনা বা চক্রান্তে পা না দেন। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। এখন এই অভিযোগের বিষয়ে রাজ্য পুলিশের প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

আরও পড়ুনঃ তিন ইস্যুতে সংসদে তুমুল বিক্ষোভ, অমিত শাহের জবাবদিহির দাবি বিরোধীদের

