Bengal STF
Bengal Liberty
সরকার বদলের পর থেকেই(West Bengal STF)জঙ্গি দমনে তৎপর বেঙ্গল STF। গত তিন মাসে একের পর এক অভিযানে বেঙ্গল STF-এর জালে ধরা পড়েছেন জঙ্গি সন্দেহে অভিযুক্ত একাধিক ব্যক্তি। সাধারণ নাগরিকের ছদ্মবেশে থাকা সন্দেহভাজন থেকে শুরু করে ISI-যোগের অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও তদন্ত এগিয়েছে। আর সোমবার এক দিনেই তপসিয়া ও ভাঙড়ে অভিযান চালিয়ে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে STF। ফলে রাজ্যজুড়ে সন্দেহভাজন জঙ্গি মডিউলের বিরুদ্ধে তদন্ত আরও জোরদার হল।

ISI এজেন্ট(West Bengal STF)
তপসিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ইমরান হোসেনকে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অভিযোগ, ISI এজেন্ট হিসেবে চিহ্নিত রানা রউফকে ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরির জন্য জাল নথি প্রস্তুত করতে সহযোগিতা করছিলেন ইমরান। রানা রউফকে আগেই গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। কলকাতায় বসে জঙ্গি নেটওয়ার্ক তৈরি, স্লিপার সেল গড়ে তোলা এবং নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ইমরানের সঙ্গে আরও কয়েক জনের যোগাযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
দেশবিরোধী প্রচার(West Bengal STF)
অন্য দিকে, ভাঙড়ে অভিযান চালিয়ে শেখ শফিক এবং জিন্নাতুল কিবরিয়া বেগ ওরফে টুটুল বেগকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে ভারতবিরোধী এবং উস্কানিমূলক প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ‘মুঘলে আজম’ এবং ‘জেহাদ-ই-সাবিলিল্লাহ’ নামে সমাজমাধ্যমের পেজ ব্যবহার করে এই ধরনের প্রচার চালানো হত কি না, তা খতিয়ে দেখছে STF। টুটুল ভাঙড়ের পানাপুকুর এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইলের মাধ্যমে তিনি কী ধরনের কার্যকলাপ চালাতেন, সেই তথ্যও তদন্তের আওতায় এসেছে।
জেহাদি মডিউল নিকেশ(West Bengal STF)
তদন্তকারীদের অভিযোগ, আল কায়দার মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলায় জেহাদি মডিউল তৈরির চেষ্টা চলছিল। সেই মডিউলের সঙ্গে ধৃতদের যোগাযোগ ছিল কি না, তা জানতে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ভাঙড় ও তপসিয়ার পাশাপাশি আরও কয়েকটি জায়গায় নজরদারি বাড়িয়েছে STF।

প্রযুক্তির সাহায্য(West Bengal STF)
বর্তমানে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমাজমাধ্যমের কার্যকলাপ, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং সন্দেহজনক লেনদেনের সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বেঙ্গল STF। গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির সমন্বয় ঘটিয়েই একের পর এক সন্দেহভাজনের কাছে পৌঁছচ্ছে তদন্তকারী দল।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি(West Bengal STF)
ফলে শুধু কোনও একটি নির্দিষ্ট এলাকা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সম্ভাব্য জঙ্গি নেটওয়ার্কের শিকড় খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। বেঙ্গল STF-এর ধারাবাহিক অভিযান এবং তৎপরতায় সন্দেহভাজন জঙ্গি মডিউলের বিরুদ্ধে তদন্ত আরও সক্রিয় হয়েছে। দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা-উদ্বেগের আবহে এই ধারাবাহিক অভিযান রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে আস্থা ফেরানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
নাশকতার ছক বানচাল(West Bengal STF)
তবে ধৃতদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগই এখনও তদন্তাধীন। তাঁদের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত, কী ধরনের নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল এবং রাজ্যের কোথাও নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই এখন তদন্ত চালাচ্ছে বেঙ্গল STF।


