Agnimitra Paul
Bengal Liberty : কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর পর শহরের হোটেলগুলির অগ্নি-নিরাপত্তা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে (Agnimitra Paul)। এই ঘটনার পর বেআইনি হোটেলের বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শনিবার মার্কুইজ স্ট্রিটের একাধিক হোটেল পরিদর্শন করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বেনিয়ম ধরা পড়লে আর শুধু নোটিশ দিয়ে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হবে না। প্রয়োজন হলে সরাসরি হোটেল সিল করে দেওয়া হবে। অগ্নিমিত্রার নির্দেশ, কোনও হোটেলে অতিথি বা পর্যটক থাকলে তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দিতে হবে। এরপর নিয়ম না মানা হলে হোটেল সিল করে দিতে হবে। তবে পরে সমস্ত কাগজপত্র ও অনুমোদন ঠিক থাকলে পুনরায় হোটেল খোলার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে (Agnimitra Paul)।

১৬টি হোটেল ইতিমধ্যেই সিল (Agnimitra Paul)
মির্জা গালিব স্ট্রিটের অগ্নিকাণ্ডের পর ধর্মতলা ও সংলগ্ন এলাকায় হোটেলগুলির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১৬টি হোটেল সিল করেছে দমকল বিভাগ। পাশাপাশি ২৫টিরও বেশি হোটেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। হোটেলগুলিতে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং অন্যান্য নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিদর্শনের সময় অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, শুধু নোটিশ পাঠিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। বেনিয়ম ধরা পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁর বক্তব্য, বৈধ নথি ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকলে কোনও হোটেলকে ব্যবসা চালানোর অনুমতি দেওয়া যায় না।

পুরনো ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরব অগ্নিমিত্রা (Agnimitra Paul)
বেআইনি হোটেল কীভাবে এত দিন শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চলল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অগ্নিমিত্রা। তাঁর নিশানায় প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং তৎকালীন তৃণমূল সরকারের প্রশাসনিক ভূমিকা। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ও ‘পারসেনটেজ’-এর বিনিময়ে নানা অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে। অগ্নিমিত্রার দাবি, আগে টাকা দিয়ে নিয়মের বাইরে থাকা কাজকে বৈধ করার অভিযোগ উঠত। কিন্তু সেই ব্যবস্থা আর চলবে না। কাটমানি ও দুর্নীতির সংস্কৃতির কারণেই নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও গাফিলতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মির্জা গালিব স্ট্রিটের অগ্নিকাণ্ডের পর প্রশ্ন এখন একটাই-শহরের প্রতিটি হোটেলে আদৌ অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি মানা হচ্ছে কি না। সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই শুরু হয়েছে একের পর এক পরিদর্শন ও অভিযান। প্রশাসনের কড়া বার্তা, নিয়ম ভাঙলে আর শুধু নোটিশ নয়, এ বার সরাসরি বন্ধ করে দেওয়া হবে বেআইনি হোটেল।
আরও পড়ুন :
Amit Shah : পাহাড়ের সমস্যা সমাধানে ‘শাহী নকশা’! গোর্খারা আরও বড় কিছু পাবেন?

