Bakery Industry Crisis
Bengal Liberty: লাগাতার কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, অতিরিক্ত করের বোঝা এবং প্রযুক্তির আধুনিকায়নে সরকারি সহায়তার অভাবে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষুদ্র ও মাঝারি বেকারি শিল্প। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে রাজ্যের কয়েক হাজার বেকারি বন্ধ হয়ে কয়েক লক্ষ শ্রমিক ও কর্মচারীর রুজি-রুটি হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই কুটির শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে সুনির্দিষ্ট ৭ দফা প্রস্তাব পেশ করেছে নিবন্ধিত সংগঠন ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল বেকার্স কো-অর্ডিনেশন কমিটি’ (West Bengal Baker’s Co-ordination Committee)।
সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমের কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে সম্পাদক শেখ ইসমাইল হোসেন জানান, রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি বেকারি ইউনিট পরিচালিত হচ্ছে। এই ক্ষেত্রটির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন কয়েক লক্ষ মানুষ। স্বাধীনতা-পূর্ব যুগ থেকে চলে আসা এই শিল্প অত্যন্ত নামমাত্র মুনাফায় পশ্চিমবঙ্গের কোটি কোটি সাধারণ, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে পুষ্টিকর ও সুলভ মূল্যে পাউরুটি ও অন্যান্য বেকারি পণ্য সরবরাহ করে আসছে। কিন্তু বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে শিল্পটির অস্তিত্ব রক্ষা করাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংকটের মূল কারণসমূহ (Bakery Industry Crisis)
প্রাক-স্বাধীনতা পর্বে মূলত হাতে গোনা কয়েকটি বড় বেকারি বিদেশি প্রযুক্তিতে অভিজাত শ্রেণির জন্য পণ্য তৈরি করত। পরবর্তীকালে সাধারণ শ্রমিকেরা নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও ক্ষুদ্র পুঁজি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পাউরুটি তৈরিতে এগিয়ে আসেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কিছু কারখানায় হাই-স্পিড মিক্সার, স্পাইরাল মিক্সার বা ডিজেল ওভেন চালু হলেও রাজ্যের সিংহভাগ ছোট বেকারি এখনও সনাতন কাঠের উনুন এবং হাতে মাখার পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল। দূষণমুক্ত পরিবেশবান্ধব ও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিতে রূপান্তর ঘটাতে গেলে যে ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন, সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে তার সুস্পষ্ট অভাব রয়েছে।
এর সঙ্গে নতুন সংকট হিসেবে যোগ হয়েছে বেকারি কনফেকশনারি সামগ্রীর ওপর ৫% জিএসটি ধার্য হওয়া। বাড়তি করের চাপে বিক্রিতে ধস নামায় বহু ছোট কারখানা উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানে।

উদ্ধারে সংগঠনের পেশ করা ৭ দফা রূপরেখা (Bakery Industry Crisis)
এই তীব্র সংকট থেকে শিল্পকে বাঁচাতে সংগঠনের পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত দাবিগুলি পেশ করা হয়েছে—
কাঁচামালের ন্যায্য মূল্য: ময়দা, চিনি ও ভোজ্য তেলের মতো প্রধান কাঁচামালগুলির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে ন্যায্য মূল্যে সরবরাহ বজায় রাখা।
পরীক্ষাগার গড়ে তোলা: প্রস্তুতকারকদের থেকে সরবরাহ করা কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্যের গুণমান পরীক্ষার জন্য সরকারি স্ট্যান্ডার্ড টেস্টিং ল্যাবরেটরি বা পরীক্ষার পরিকাঠামো গড়ে তোলা।
কর ছাড়: কর্মসংস্থান রক্ষা ও নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের স্বার্থে বেকারি পণ্যের ওপর থেকে ৫% জিএসটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে ০% করা।
সহজে ঋণপ্রদান: পরিবেশবান্ধব আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের লক্ষ্যে সহজ শর্তে, কম সুদে ও নামমাত্র নথিপত্রে ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা করা।
বেকারি ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন গঠন: নীতিগত ও পরিকাঠামোগত সংস্কারের অংশ হিসেবে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যেখানে ব্যাংক প্রতিনিধি, খাদ্য প্রযুক্তিবিদ, শিল্প দফতরের আধিকারিক এবং বেকারি প্রতিনিধিরা থাকবেন।
দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণ: স্বল্পশিক্ষিত মালিক ও শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা।
মিড-ডে মিল কর্মসূচি: পরীক্ষামূলকভাবে স্কুলের মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে স্থানীয় বেকারিতে উৎপাদিত পুষ্টিকর খাদ্য অন্তর্ভুক্ত করা।
সংগঠনের নেতৃত্বের স্পষ্ট বার্তা, সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা এবং লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের জীবিকা টিকিয়ে রাখতে রাজ্য প্রশাসনের উচিত এই প্রস্তাবগুলি অবিলম্বে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

