Congress
Bengal Liberty : কলকাতা শহরের নাগরিক পরিষেবা, অগ্নি-নিরাপত্তা, পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস, জনগণনা এবং অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প-এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ও মিউনিসিপ্যাল কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের সঙ্গে দেখা করল পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল (Congress)। ২২ আগস্ট কমিশনারের কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ ও দাবি জমা দেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার-সহ দলের নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, একদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর তৎপরতা দেখা গেলেও নিয়মিত নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে, পুর পরিষেবা ও কর্মী নিয়োগের অভাবে শহরের সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছেন (Congress)।

অগ্নিকাণ্ড রুখতে নিয়মিত ফায়ার অডিটের দাবি (Congress)
ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেসের দাবি, শহরের সমস্ত হোটেল, গেস্ট হাউস ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ফায়ার সেফটি অডিট করতে হবে। অগ্নিকাণ্ডের পর অভিযান চালানোর বদলে আগে থেকেই নজরদারি প্রয়োজন বলে দাবি তাদের।কংগ্রেস নেতারা বলেন, “তারাতলা থেকে আমরা কি শিখেছি? যদি শিখতাম, তাহলে এই পরিস্থিতি তৈরি হত না।” তাঁদের অভিযোগ, বেআইনি প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি হচ্ছে না। এই ধরনের প্রতিষ্ঠান কীভাবে এতদিন নিয়ম ভেঙে চলল, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে। সর্বদলীয় বৈঠকের মাধ্যমে ফায়ার সেফটি সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস।

ডিলিমিটেশন নিয়ে প্রশ্ন, আগে সেন্সাসের দাবি (Congress)
কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড ডিলিমিটেশন নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে কংগ্রেস। তাঁদের দাবি, বিভিন্ন এলাকায় ম্যাপিংয়ে এখনও অসঙ্গতি এবং ওভারল্যাপিং রয়েছে। তাই ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ায় সর্বদলীয় বৈঠক করার দাবি জানানো হয়েছে। কংগ্রেসের বক্তব্য, “ডিলিমিটেশনের আগে সেন্সাসটা করলে অনেক সঠিক হতো।” জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতে আরও নির্ভুলভাবে সীমানা নির্ধারণের দাবি তাঁদের। এ নিয়ে কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদনও জমা দিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। চিঠিতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি জানানো হয়েছে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ও পুর পরিষেবা নিয়েও সরব (Congress)
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা এখনও বহু যোগ্য মহিলা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ কংগ্রেসের। পুরসভা এলাকার কতজন আবেদন করেছেন, কতজন টাকা পাননি এবং কেন পাননি-বুথভিত্তিক সেই তথ্য প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জনগণনা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং বুথভিত্তিক শিবির করার দাবিও উঠেছে। শহরের নাগরিক পরিষেবা নিয়েও সরব কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, পুরসভায় দীর্ঘদিন নিয়োগ না হওয়ায় বিভিন্ন বিভাগে কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। নিকাশি, বর্জ্য পরিষ্কার, জল নিষ্কাশন এবং রাস্তা মেরামতির মতো পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে।
কংগ্রেস নেতাদের বক্তব্য, “কলকাতা শহরের মানুষ যে নাগরিক পরিষেবা পাওয়ার কথা, তা পাচ্ছেন না।” তাঁদের দাবি, দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে পুর পরিষেবাকে স্বাভাবিক করতে হবে। কমিশনার তাঁদের অভিযোগ ও প্রস্তাব শুনেছেন এবং যতটা সম্ভব তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতারা। সমস্যা সমাধান না হলে ফের পুর কমিশনারের কাছে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা।

