Durand Derby Final
Bengal Liberty
আর মাত্র এক দিনের অপেক্ষা। তারপরই কলকাতার যুবভারতী(Durand Derby Final) ক্রীড়াঙ্গনে শুরু হবে ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম বড় মহারণ। ১৩৫তম ডুরান্ড কাপের ফাইনালে রবিবার মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল এফসি ও মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। একদিকে মরসুমের শুরুতেই প্রথম ডার্বি জিতে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর সবুজ-মেরুন শিবির। অন্যদিকে সেই হারের বদলা নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানোর লক্ষ্য লাল-হলুদের।শুধু একটি ট্রফির লড়াই নয়, রবিবারের এই ম্যাচ দুই ক্লাবের কাছে সম্মান, আবেগ, গৌরব এবং ইতিহাসের লড়াই। ডুরান্ডের মঞ্চে আবারও মুখোমুখি বাংলার দুই মহাশক্তি। ফলে যুবভারতীতে যে ফুটবল-উৎসব হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। ডুরান্ড কাপ এশিয়ার প্রাচীনতম ফুটবল প্রতিযোগিতা এবং এই ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্টে দুই দলের ইতিহাসও অত্যন্ত সমৃদ্ধ।

উদ্বোধনী ম্যাচের হারের বদলা নেওয়ার সুযোগ ইস্টবেঙ্গলের(Durand Derby Final)
চলতি ডুরান্ড কাপের শুরুটাই হয়েছিল কলকাতা ডার্বি দিয়ে। উদ্বোধনী ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত শুরু করেছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। সেই ম্যাচে সাহাল আবদুল সামাদের একমাত্র গোলই শেষ পর্যন্ত দুই দলের মধ্যে ব্যবধান গড়ে দেয়। প্রায় এক মাস পর আবারও একই টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি দুই দল। ফলে প্রথম ডার্বিতে হারের বদলা নেওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের ইস্টবেঙ্গলের সামনে। অন্যদিকে, একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বার জয় তুলে নিয়ে ডুরান্ড কাপ ধরে রাখার লক্ষ্য মোহনবাগানের।
সেমিফাইনালের লড়াই পেরিয়ে ফাইনালে দুই দল(Durand Derby Final)
ফাইনালে পৌঁছনোর পথে দুই দলকেই কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়েছে। ইস্টবেঙ্গল সেমিফাইনালে এসসি দিল্লির বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ে গোল করতে না পারলেও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জয় তুলে নেয়। পেনাল্টি শুটআউটে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে লাল-হলুদ বাহিনী। অন্যদিকে, মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের পথও সহজ ছিল না। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে কঠিন সেমিফাইনালের পর টাইব্রেকারে জয় পায় সবুজ-মেরুন। গোলরক্ষক বিশাল কাইথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা মোহনবাগানকে ফাইনালে পৌঁছে দেয়। এবার সেই সেমিফাইনালের ক্লান্তি ভুলে রবিবারের মহারণে নামার পালা।

ফাইনালের আগে বিশ্রামে বাড়তি সুবিধা ইস্টবেঙ্গলের(Durand Derby Final)
সেমিফাইনালের পর প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও কিছুটা বাড়তি সুবিধা পেয়েছে ইস্টবেঙ্গল। লাল-হলুদ শিবিরের হাতে ম্যাচের আগে বাড়তি অনুশীলন ও রিকভারির সময় ছিল। অন্যদিকে, শিলং থেকে ফেরার পথে বিমান বিভ্রাটের কারণে সমস্যায় পড়তে হয়েছে মোহনবাগান দলকে। সবুজ-মেরুন ফুটবলারদের একসঙ্গে দ্রুত কলকাতায় ফেরার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ডার্বির মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই বিশ্রাম ও প্রস্তুতির পার্থক্য কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। তবে মোহনবাগানের অভিজ্ঞ দল যে এই চাপ সামলানোর জন্য প্রস্তুত থাকবে, তা বলাই যায়।
ডুরান্ড ফাইনালে ইতিহাসে কার পাল্লা ভারী(Durand Derby Final)
রবিবারের ম্যাচটি ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের মধ্যে ডুরান্ড কাপ ফাইনালে ১৩তম সাক্ষাৎ। অতীতের ফাইনালের লড়াইয়ে ইস্টবেঙ্গল সামান্য এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক স্মৃতি মোহনবাগানের পক্ষেই কথা বলছে। দুই দল সর্বশেষ ডুরান্ড কাপ ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ২০২৩ সালে। সেই ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মোহনবাগান। ফলে তিন বছর আগের সেই হারের স্মৃতিও নিশ্চয়ই রবিবার ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মনে ফিরে আসবে। ইস্টবেঙ্গলের কাছে তাই এবার শুধু ট্রফি জেতার সুযোগ নয়, ২০২৩ সালের ফাইনালের হারের বদলা নেওয়ারও সুবর্ণ সুযোগ।

ডুরান্ডের দুই মহাশক্তির ট্রফির লড়াই(Durand Derby Final)
ডুরান্ড কাপের ইতিহাসে মোহনবাগান সবচেয়ে সফল ক্লাব। সবুজ-মেরুনরা এখনও পর্যন্ত ১৭ বার এই ঐতিহ্যবাহী ট্রফি জিতেছে। অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গল জিতেছে ১৬ বার। অর্থাৎ, রবিবার মোহনবাগান জিতলে ১৮তম ডুরান্ড ট্রফি তাদের ঘরে যাবে। আর ইস্টবেঙ্গল জিতলে ১৭টি শিরোপা নিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে ব্যবধান কমাবে লাল-হলুদ শিবির। ট্রফির সংখ্যার এই লড়াইও ম্যাচটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
যুবভারতীতে উপচে পড়বে সমর্থকদের ভিড়(Durand Derby Final)
কলকাতা ডার্বি মানেই আবেগের বিস্ফোরণ। আর সেই ম্যাচ যখন ডুরান্ড কাপের ফাইনাল, তখন উন্মাদনা কয়েকগুণ বেশি হওয়াটাই স্বাভাবিক। যুবভারতীতে বিপুল সংখ্যক দর্শকের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে। টিকিট নিয়ে ইতিমধ্যেই দুই ক্লাবের সমর্থকদের মধ্যে তুমুল আগ্রহ দেখা গিয়েছে। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবও তাদের সদস্যদের জন্য সীমিত সংখ্যক টিকিট বিনামূল্যে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সব মিলিয়ে রবিবার যুবভারতী যেন কার্যত লাল-হলুদ ও সবুজ-মেরুনে ভাগ হয়ে যাবে।
এবার কার হাতে উঠবে ট্রফি(Durand Derby Final)
একদিকে মোহনবাগানের ১৮তম ডুরান্ড জয়ের স্বপ্ন, অন্যদিকে ২২ বছর পর ইস্টবেঙ্গলের ডুরান্ড কাপ ঘরে ফেরানোর লক্ষ্য। একদিকে উদ্বোধনী ম্যাচের জয়ের আত্মবিশ্বাস, অন্যদিকে সেই হারের বদলা নেওয়ার জেদ। দুই কোচের কৌশল, দুই দলের তারকা ফুটবলার, গ্যালারির গর্জন এবং ইতিহাস—সব মিলিয়ে রবিবার যুবভারতীতে তৈরি হতে চলেছে ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম বড় যুদ্ধক্ষেত্র।মরসুমের শুরুতে প্রথম ডার্বি জিতেছিল মোহনবাগান। কিন্তু ট্রফি নির্ধারণের ম্যাচে শেষ হাসি কে হাসবে? ইস্টবেঙ্গল কি দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষা শেষ করে ডুরান্ড ঘরে তুলবে, নাকি মোহনবাগান নিজেদের ট্রফির সংখ্যা আরও বাড়িয়ে সবুজ-মেরুন সমর্থকদের উৎসবে ভাসাবে? উত্তর মিলবে আগামীকাল। কলকাতা প্রস্তুত, সমর্থকেরা প্রস্তুত, আর এখন অপেক্ষা শুধুই ফুটবল মহারণের!


