Jantar Mantar
Bengal Liberty: জাতভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার বিরোধিতায় শুক্রবার উত্তাল হয়ে উঠল দিল্লির যন্তর মন্তর। ‘রিজার্ভেশন হটাও’ (Reservation Bachao) আন্দোলনের ডাক দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ যন্তর মন্তরে জড়ো হয়েছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে পুলিশ ও আধাসেনা নামায় মোদি সরকার। বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে পুলিশ ৫০ জনেরও বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করেছে।

আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি (Jantar Mantar)
বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি হল, সরকারি সুবিধা, শিক্ষা বা চাকরির ক্ষেত্রে জাতি বা বর্ণের ভিত্তিতে নয়, বরং অর্থনৈতিক অবস্থার ভিত্তিতে সংরক্ষণ দেওয়া হোক। তাঁদের স্লোগান ছিল— “গরিবো কো আরক্ষণ মিলে, জাত কো নেহি” (অর্থাৎ, গরিব মানুষ সংরক্ষণ পাক, জাতি নয়)।
আন্দোলনকারীদের মতে, বর্তমান জাতিভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার সুফল অনেক সময় প্রকৃত বঞ্চিত মানুষের কাছে পৌঁছায় না। তাই পুরো ব্যবস্থাটি পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

পুলিশের পদক্ষেপ (Jantar Mantar)
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যন্তর মন্তরে এই ধরনের জমায়েত বা বিক্ষোভের কোনও অনুমতি ছিল না। যদিও আন্দোলনকারীদের রামলীলা ময়দানে ৫০০ জনের একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাঁরা সেখানে না গিয়ে যন্তর মন্তরে ভিড় জমান।
পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না যায়, সেজন্য যন্তর মন্তর এলাকা ঘিরে পুলিশের পাশাপাশি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। অবশেষে বলপ্রয়োগ করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ এবং অন্তত ৫০ জনকে আটক করা হয়।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে ভারতে এসসি (SC), এসটি (ST) এবং ওবিসি (OBC) শ্রেণির জন্য নির্দিষ্ট হারে জাতভিত্তিক সংরক্ষণ চালু রয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়াদের (EWS) জন্য ১০ শতাংশ কোটা রয়েছে। সমাজমাধ্যমের একটি বিশাল প্ল্যাটফর্ম ‘রিজার্ভেশন হটাও আন্দোলন’-এর আহ্বানে সাড়া দিয়েই শুক্রবার এই কর্মসূচি পালিত হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতির আঙিনায় ফের সংরক্ষণ নিয়ে নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

