Bengal Liberty:
নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শনিবার গ্রেফতার হলেন হোটেলটির মালিক বীরেশ্বর মিত্র। বেহালার ডায়মন্ড হারবার রোড এলাকার বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পর প্রথমে নিজের গাড়িতে করে ধানবাদে পালিয়ে যান বীরেশ্বর। পরে ঝাড়খণ্ডে আত্মগোপন করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (Kolkata Hotel Fire)
তদন্তকারীদের নজর এড়াতে ঝাড়খণ্ডে তাঁর কয়েকজন কর্মচারীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে পুলিশের অনুমান। এদিকে, তাঁর দু’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে নগদের সমস্যাতেও পড়তে পারেন তিনি। সেই কারণেই সম্ভবত কলকাতায় ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে অনুমান পুলিশের। শেষ পর্যন্ত শনিবার বেহালার বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সংকীর্ণ জায়গায় দুটি হোটেল(Kolkata Hotel Fire)
নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটে বীরেশ্বর মিত্রের মালিকানাধীন দু’টি হোটেল ছিল—একটি ‘শিখা ইন’ এবং অন্যটি ‘জাপন’। দু’টি হোটেলই ছোট জায়গায় অবস্থিত এবং একে অপরের ঠিক উল্টো দিকে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ‘জাপন’ হোটেলের কর্মীরাই প্রথম দেখতে পান, উল্টো দিকের ‘শিখা ইন’ দাউদাউ করে জ্বলছে।
ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয় ৯ জনের। মৃতদের মধ্যে ৮ জনই বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। কেউ চিকিৎসার জন্য, আবার কেউ অন্য কাজে কলকাতায় এসেছিলেন বলে জানা যায়। ঘটনার পর থেকেই হোটেলের মালিকানা, লিজ এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

লিজ নিয়ে ব্যবসা(Kolkata Hotel Fire)
তদন্তে উঠে এসেছে, ‘শিখা ইন’-এর একটি তলা বীরেশ্বর মিত্রের কাছ থেকে লিজ নিয়েছিলেন ব্যবসায়ী আবু জাফর। বিনিময়ে প্রতি মাসে বীরেশ্বরকে ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হত বলে জানা গিয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর জাফরও রাজ্যের বাইরে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন বলে অভিযোগ। তবে তার আগেই লালবাজারের পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।
Kolkata Hotel Fire
এ বার পুলিশের জালে হোটেল মালিক বীরেশ্বর মিত্র। আগুনের ঘটনায় তাঁর ভূমিকা, হোটেলের লিজ সংক্রান্ত বিষয় এবং অগ্নিনিরাপত্তায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না সব দিকই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

আরও পড়ুনঃ কোভিডকালে শমীক ভট্টাচার্যের উপর হামলার অভিযোগ! অভিষেক ও সুমিতের বিরুদ্ধে নতুন মামলা

