Raju Bista
Bengal Liberty: পাহাড়ের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা ও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে শনিবার শিলিগুড়ির সুকনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা এবং পাহাড়ের জনপ্রতিনিধিরা। তিন দিনের বঙ্গ সফরের শেষ দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বৈঠককে কেন্দ্র করে পাহাড়ের রাজনৈতিক মহলে প্রবল প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

সাংসদ রাজু বিস্তার দাবি (Raju Bista)
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাংসদ রাজু বিস্তা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, “পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের বিষয়ে আমরা আমাদের দাবি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছি। বিগত বহু বছর ধরে আটকে থাকা এই সমস্যার একটি চূড়ান্ত ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আমরা এগিয়ে চলেছি। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই পাহাড়ের সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্য একজন বিশেষ প্রতিনিধি বা ইন্টারলকিউটর (Interlocutor) নিয়োগ করেছে, যা সমাধানের পথকে আরও ত্বরান্বিত করবে।” সাংসদ স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁরা পাহাড়ের মানুষ এবং পাহাড়ের উন্নয়নের কথা মাথায় রেখেই আজ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে নিজেদের জোরালো বক্তব্য পেশ করেছেন।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় (Raju Bista)
আলোচনার মূল এজেন্ডায় ছিল জিটিএ (GTA)-এর ভবিষ্যৎ, পাহাড়ের স্থানীয় নির্বাচন প্রক্রিয়া, উন্নয়নমূলক কর্মযজ্ঞ এবং স্থানীয় যুবক-যুবতীদের জন্য স্বচ্ছ নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি।
এই বৈঠকের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন শিলিগুড়ি করিডর বা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’-এর সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও পর্যালোচনা করেছেন। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই এলাকা অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়েও তিনি প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাংসদ রাজু বিস্তা সহ পাহাড়ের নেতাদের এই বৈঠক পাহাড়ের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় তৈরি করল। পাহাড়ের বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন দাবি জানালেও, সাংসদের দাবি অনুযায়ী কেন্দ্র সমাধানের রূপরেখা নিয়ে যথেষ্ট আন্তরিক। পাহাড়বাসীর প্রত্যাশা, এই বৈঠক যেন আর পাঁচটা বৈঠকের মতো শুধু প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব সমাধানের পথে প্রথম বড় পদক্ষেপ হয়ে ওঠে। এখন দেখার, কেন্দ্রীয় সরকার পাহাড়ের এই সমস্যা সমাধানে কবে চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

