Abhijeet Dipke FIR
Bengal Liberty: মহারাষ্ট্রের লাতুর জেলায় সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো ও শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে বড় আইনি বিপাকে পড়লেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা তথা কনভেনর অভিজিৎ দীপকে। সম্প্রতি লাতুর জেলার আওসা এলাকার একটি সরকারি স্কুলে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং স্কুল শিক্ষকদের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস থেকে ‘স্কুল ঠিক করো’ (School Thik Karo) নামে একটি বিশেষ কর্মসূচি শুরু করেছে সিজেপি। গ্রামীণ এলাকার সরকারি স্কুলগুলির বেহাল পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং অব্যবস্থা জনসমক্ষে আনাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। সেই অভিযানের অংশ হিসেবেই গত সপ্তাহে মহারাষ্ট্রের লাতুর জেলার আওসা থানা এলাকার একটি জেলা পরিষদ উর্দু স্কুলে পৌঁছান অভিজিৎ দীপকে ও তাঁর বেশ কয়েকজন সহযোগী।

তবে অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষের বা প্রশাসনের কোনও রকম অনুমতি না নিয়েই তাঁরা জোর করে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাসরুমে ঢুকে পড়েন। এরপর তাঁরা পঠনপাঠন চলাকালীনই পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন প্রশ্ন করতে শুরু করেন। অভিযোগকারী শিক্ষিকার দাবি, হঠাৎ করে এই ধরনের অনধিকার প্রবেশ ও বহিরাগতদের উপস্থিতির কারণে স্কুলের স্বাভাবিক পঠনপাঠন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
শুধু তাই নয়, স্কুলের ভেতরে মোবাইল বা ক্যামেরায় পুরো ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করে তা পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ওই ভিডিওগুলির মাধ্যমে স্কুল এবং শিক্ষা ব্যবস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। সিজেপি নেতার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, তাঁদের স্কুল পরিদর্শনের খবর পেয়ে আসল পরিস্থিতি ঢাকতে অন্য স্থান থেকে ‘ভাড়া করা’ বা নকল পড়ুয়া এনে ক্লাসে বসানো হয়েছিল। পাশাপাশি, স্কুলের পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষকদের প্রকাশ্যে বরখাস্ত বা সাসপেন্ড করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে অভিজিতের বিরুদ্ধে।

এই সমস্ত ঘটনার পরেই আওসা থানায় স্থানীয় এক শিক্ষিকার পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ১৩২ (সরকারি কর্মীকে কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়া), ৩২৯(৩) (অনধিকার প্রবেশ), ৩৫১(২) (অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শন) এবং ৩৫৬(২) (মানহানি বা ফৌজদারি অপমান) ধারায় মামলা রুজু করেছে। সরকারি স্কুলের অব্যবস্থা ও দুর্নীতি তুলে ধরার লড়াই চালাতে গিয়ে সংগঠনের প্রধানের বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ায় রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। বর্তমানে পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ
Fire Dept Scam: নিউমার্কেটে ৭০টি বেআইনি হোটেল সিল! ফায়ার সার্টিফিকেট দুর্নীতিতে নজরে দমকল

