Court Employee Strike
Bengal Liberty: তীব্র কর্মী সংকট, বেহাল পরিকাঠামো এবং বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তি দূর করার দাবিতে রাজ্যজুড়ে ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক নিম্ন-আদালত ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ ও ২৫শে আগস্ট ২০২৬ (সোমবার ও মঙ্গলবার) রাজ্যের সমস্ত জেলা ও মহকুমা আদালতে এই ধর্মঘট পালিত হবে। পশ্চিমবঙ্গ আদালত কর্মচারী সমিতি (WBCEA) ও রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটিসহ বিভিন্ন সংগ্রামী কর্মচারী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনের মূল প্রেক্ষাপট ও অভিযোগসমূহ (Court Employee Strike)
সংগঠনগুলির অভিযোগ, দীর্ঘ ৭-৮ বছর ধরে আদালতে নিয়মিত নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। ‘ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট সার্ভিস রুস, ২০১৫’-এর ত্রুটি এবং প্রশাসনিক সদিচ্ছার অভাবে গত প্রায় এক দশক ধরে কোনো কর্মী নিয়োগ না হওয়ায় স্টেনোগ্রাফার, এলডিসি (LDC), সমন বেলিপ ও গ্রুপ-ডি সহ হাজার হাজার পদ শূন্য পড়ে রয়েছে। এর ফলে বিচারকাজের স্বাভাবিক গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে: (Court Employee Strike)
সিভিক ভলান্টিয়ারের ব্যবহার: তীব্র কর্মী সংকট ঢাকতে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে সিভিক ভলান্টিয়ার, হোমগার্ড ও ঠিকাকর্মীদের দিয়ে আদালতের অত্যন্ত সংবেদনশীল বিচার বিভাগীয় ও গোপনীয় নথি সংক্রান্ত কাজ করানো হচ্ছে, যা বিচার ব্যবস্থার সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।
শেঠি কমিশনের সুপারিশ অবহেলা: ২০০৩ সাল থেকে শেঠি কমিশনের ঐতিহাসিক সুপারিশ আদালত কর্মচারীদের জন্য আজও সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করা হয়নি। আধুনিক রেকর্ড রুম, স্বাস্থ্য সরঞ্জাম এবং ১৫% আবাসন কোটা পুরোপুরি উপেক্ষিত।
ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট ও আইটি কর্মীর অভাব: ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে দীর্ঘ ১৯-২০ বছর ধরে কর্মরত কর্মচারীদের আজও নিঃশর্ত স্থায়ী করা হয়নি। পাশাপাশি ই-কোর্ট (e-Courts) ও সিআইএস (CIS) সংক্রান্ত জটিল কাজের জন্য কোনো স্থায়ী পদ সৃষ্টি করা হয়নি।

প্রধান দাবিগুলি (Court Employee Strike)
১. অবিলম্বে স্টেনোগ্রাফার, এলডিসি, সমন বেলিপ ও গ্রুপ-ডি সহ সমস্ত শূন্যপদে স্থায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
২. শেঠি কমিশনের সুপারিশের পরিপন্থী ‘ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট সার্ভিস রুলস, ২০১৫’-এর প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে।
৩. আদালতের বিচারিক ও গোপনীয় কাজে সিভিক ভলান্টিয়ার, হোমগার্ড বা চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের অনিয়মিত ব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
৪. ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের কর্মচারীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত স্থায়ীকরণ করতে হবে।

আদালতের কাজকর্ম বন্ধ থাকার ঘোষণা (Court Employee Strike)
ধর্মঘট চলাকালীন আগামী ২৪ ও ২৫শে আগস্ট রাজ্যের সমস্ত জেলা ও মহকুমা আদালতে জুডিশিয়াল অর্ডার, জুডিশিয়াল ডায়েরি লিখনসহ যাবতীয় বিচার বিভাগীয় ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্তব্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এই আন্দোলন শুধুমাত্র কর্মচারীদের ব্যক্তিগত স্বার্থের নয়, বরং বিচার ব্যবস্থার সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে এনে সাধারণ মানুষের দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রক্ষার লড়াই বলে দাবি করেছেন পশ্চিমবঙ্গ আদালত কর্মচারী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক বিনয় হালদার এবং রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটির সম্পাদক বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী। এই কর্মবিরতির জেরে বিচারপ্রার্থী মানুষ, আইনজীবী ও মহুরীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ
Ritabrata Banerjee: দিলীপের ‘এনকাউন্টার’ মন্তব্যে তীব্র আক্রমণ, খাপ পঞ্চায়েতের সঙ্গে তুলনা ঋতব্রতর

