Durand Derby Final
Bengal Liberty
১৩৫তম ডুরান্ড কাপের পুরো(Durand Derby Final) প্রতিযোগিতা জুড়েই দেখা গিয়েছে গোলের বন্যা। প্রথম ম্যাচ থেকে ফাইনাল পর্যন্ত ঐতিহ্যের ডুরান্ড কাপে গোলের উৎসবের পাশাপাশি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইও চুটিয়ে উপভোগ করেছেন ফুটবলপ্রেমীরা।তবে হাড্ডাহাড্ডি সেমিফাইনালের পর ডুরান্ড ডার্বির ফাইনাল যে এত সহজেই ইস্টবেঙ্গল জিতে নেবে, তা সত্যিই কেউ ভাবতে পারেননি। ৪-১ গোলে মোহনবাগানকে উড়িয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল। একেবারেই একতরফা ম্যাচের সাক্ষী রইল যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন।
কান্নার অশ্রু(Durand Derby Final)
পুরো ম্যাচজুড়েই ছিল ইস্টবেঙ্গলের দাপুটে পারফরম্যান্স। বিরতির আগেই কার্যত ম্যাচের ফয়সালা হয়ে গিয়েছিল। নিয়মরক্ষার জন্যই যেন দ্বিতীয়ার্ধের খেলা খেলতে হল দুই দলকে। প্রথমার্ধেই স্কোরলাইন ৪-১। তাতেই বোঝা গিয়েছিল, ২০০৪-এর পর ফের ডুরান্ড কাপে জয়ের স্বাদ পেতে চলেছে ইস্টবেঙ্গল। সাবাস ইস্টবেঙ্গল, সাবাস! ডুরান্ড কাপের প্রতিযোগিতা এই জয়ের ধ্বনির সঙ্গেই আবেগে ভাসলেন লাল-হলুদ সমর্থকরা।

ম্যাচ শুরুর আগে নৃত্য পরিবেশন(Durand Derby Final)
ম্যাচ শুরুর আগেই উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে পুরুলিয়ার ছৌ নাচের পাশাপাশি মহারাষ্ট্রের মল্লখম্ভ প্রদর্শনী হয়। এরপর শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ এবং সেনা কর্তাদের উপস্থিতিতে শুরু হয় ১৩৫তম ডুরান্ড কাপের মেগা ফাইনাল।
প্রথমার্ধেই ম্যাচের ফয়সালা(Durand Derby Final)
রেফারির বাঁশির সঙ্গে শুরু হল ডুরান্ড ডার্বির মেগা ফাইনাল। প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে দুই দল। এরপর ম্যাচের ১০ মিনিটেই ফাঁকা গোল পেয়ে বিপিন সিংয়ের গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লাল-হলুদ। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি মোহনবাগান। মানভীরের হ্যাটট্রিকের মাঝে মোহনবাগান একটি গোল শোধ করলেও ততক্ষণে ডুরান্ড কাপের ট্রফিতে ইস্টবেঙ্গলের নাম কার্যত লেখা হয়ে গিয়েছিল। প্রথমার্ধের খেলা শেষেই ৪-১ গোলে এগিয়ে গিয়ে কার্যত ডুরান্ড কাপের ট্রফি জিতে নেয় ইস্টবেঙ্গল। ২২ বছর পর লিগ, ডুরান্ড—সবকিছুই যেন সম্পূর্ণ হল। জমজমাট প্রতিযোগিতার সমাপ্তিও হল জমজমাটভাবেই।
নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কি ম্যাচ হয়েছে(Durand Derby Final)
ম্যাচের শুরু থেকেই মোহনবাগানের খেলোয়াড়দের বেশ ক্লান্ত দেখিয়েছে। কারণ, বৃহস্পতিবার শিলংয়ের স্টেডিয়ামে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে পেনাল্টি শুটআউটে ম্যাচ জেতার পর মোহনবাগান দলের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। একদিকে বিমান নিয়ে সমস্যা, অন্যদিকে পর্যাপ্ত রিকভারি টাইমও পায়নি সবুজ-মেরুন শিবির। বিপরীতে দিল্লির বিরুদ্ধে জয়ের পর তিন দিন টানা বিশ্রাম নিয়ে পুরো দল নিয়ে মাঠে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল।

অন্যদিকে ক্লান্তি ও দুর্ব্যবহারকে সঙ্গী করেই ডুরান্ডের ফাইনালে খেলতে নেমেছিল মোহনবাগান। প্রশ্ন উঠছে, ইস্টবেঙ্গলকে কেন বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হল? নিরপেক্ষতার নীতিকে উপেক্ষা করেই ডুরান্ডের ট্রফি ইস্টবেঙ্গলের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে—এই অভিযোগ তুলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মোহনবাগান সমর্থকদের একাংশ। এর পাশাপাশি শিলং কিংবা নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে কি কোনও রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে? ডুরান্ড কাপের ফাইনালকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বিতর্ক চরমে।


