Mohun Bagan
Bengal Liberty
বিয়ের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই স্ত্রীর(Mohun Bagan) অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল বরানগরে। অভিযোগ, স্ত্রীকে খুন করেছেন প্রাক্তন মোহনবাগান ফুটবলার মানস দাস। ঘটনায় পুলিশ প্রাক্তন ফুটবলারকে গ্রেফতার করেছে। মৃতার পরিবারের অভিযোগ এবং স্থানীয়দের ক্ষোভে রবিবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অশোকগড় এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিশকে।

বিয়ের তিন মাসেই অশান্তি, তার পরেই স্ত্রীর মৃত্যু(Mohun Bagan)
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গের বাসিন্দা রিয়া পালের সঙ্গে প্রায় তিন মাস আগে বিয়ে হয়েছিল মানস দাসের। এটি ছিল প্রাক্তন ফুটবলারের দ্বিতীয় বিয়ে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কে অশান্তি চলছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। শনিবার মানসের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় রিয়ার ঝুলন্ত দেহ। এর পরেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর উপর অত্যাচার চালাতেন মানস। তাঁর মৃত্যুর পিছনে স্বামীর ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

স্ত্রীকে ‘খুনের’ অভিযোগ, গ্রেফতার প্রাক্তন মোহনবাগান তারকা(Mohun Bagan)
ঘটনার পর প্রাথমিক ভাবে পুলিশ মানস দাস ও তাঁর মাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পরে রবিবার সকালে মানসকে গ্রেফতার করে বরানগর থানার পুলিশ। যদিও স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ ঘিরে তদন্ত এখনও চলছে। মানসের দাবি, দীর্ঘ সময় স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন। ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় জানলা দিয়ে উঁকি দিয়ে স্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি। তবে এটি সত্যিই আত্মহত্যা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ, উত্তপ্ত বরানগর(Mohun Bagan)
রিয়ার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই মানসের বাড়ির সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয়রা। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবিতে পুলিশের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখানো হয়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ঘটনায় কয়েকজন আহত হওয়ার খবরও মিলেছে।
মোহনবাগানের হয়ে খেলেছেন মানস(Mohun Bagan)
কলকাতা ময়দানের পরিচিত মুখ মানস দাস টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসা ফুটবলার। ২০০৫ সালে তিনি মোহনবাগানে যোগ দেন এবং দু’বছর সবুজ-মেরুন জার্সিতে খেলেন। এ ছাড়াও টালিগঞ্জ অগ্রগামী, সাদার্ন সমিতি, প্রয়াগ ইউনাইটেড ও মহিন্দ্রার মতো ক্লাবের হয়েও খেলেছেন তিনি। ডিফেন্ডার এবং মিডফিল্ডার—দুই ভূমিকাতেই তাঁকে মাঠে দেখা গিয়েছে। তবে এ বার ফুটবল মাঠ নয়, স্ত্রীকে ‘খুনের’ অভিযোগে পুলিশের জালে জড়িয়ে চাঞ্চল্য ছড়াল প্রাক্তন মোহনবাগান তারকাকে ঘিরে।
তদন্তে কী উঠে আসে, সেদিকেই নজর(Mohun Bagan)
মাত্র তিন মাসের দাম্পত্য জীবন, তার পরেই স্ত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু। তার সঙ্গে প্রাক্তন ফুটবলারের বিরুদ্ধে ওঠা গার্হস্থ্য হিংসা ও হত্যার অভিযোগ—সব মিলিয়ে ঘটনায় একের পর এক প্রশ্ন উঠছে। মানসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কতটা সত্যি এবং রিয়ার মৃত্যুর নেপথ্যে আসল ঘটনা কী, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও পুলিশের তদন্তেই স্পষ্ট হবে। আপাতত গ্রেফতার প্রাক্তন মোহনবাগান ফুটবলারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


