Rahul Gandhi
Bengal Liberty : পুণেতে তরুণীদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক প্রশ্ন তুললেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। তাঁর প্রশ্ন, একজন নারী কি শুধুই কারও মেয়ে, স্ত্রী, মা কিংবা বোন? নাকি এই সম্পর্কগুলির বাইরেও রয়েছে তাঁর নিজস্ব পরিচয়, স্বপ্ন এবং স্বাধীন সত্তা? তাঁর স্পষ্ট বার্তা, নারী সবার আগে নিজের। পারিবারিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা যেন কোনও নারীর পরিচয়ের শেষ সীমা হয়ে না ওঠে। নিজের শিক্ষা, পেশা, সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নারীরই থাকা উচিত (Rahul Gandhi)।

‘নারী সবার আগে নিজের’ বলেন রাহুল (Rahul Gandhi)
শনিবার পুণেতে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচির মহিলা-কেন্দ্রিক বিশেষ পর্বে যোগ দেন রাহুল। ছাত্রী, তরুণী এবং বিভিন্ন পেশার মহিলাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। তাঁদের অভিজ্ঞতা, উদ্বেগ এবং ভবিষ্যতের স্বপ্নের কথা শোনেন রাহুল। রাহুল বলেন, ভারতের প্রায় ৭০ কোটি নারী দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। অথচ তাঁদের অনেক সময় স্বাধীন ব্যক্তি হিসেবে দেখা হয় না। বরং মেয়ে, বোন, স্ত্রী বা মা-এই পরিচয়ের মধ্যেই তাঁদের আটকে রাখা হয়। তাঁর কথায়, “নারী সবার আগে নিজের। সেটাই তাঁর প্রথম পরিচয়।” এরপর তিনি কারও মেয়ে, বোন, স্ত্রী বা মা। এই সম্পর্কগুলির গুরুত্ব অস্বীকার করছেন না তিনি। তবে সেই সম্পর্ক যেন নারীর নিজস্ব পরিচয়কে ঢেকে না দেয়, সেটাই তাঁর মূল বক্তব্য।

‘খাঁচা’ ভাঙার ডাক (Rahul Gandhi)
পুণের অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ছিল ‘খাঁচা ভাঙা’। রাহুলের মতে, এই খাঁচা শুধু ঘরের চার দেওয়াল নয়। সামাজিক চাপ, অর্থনৈতিক নির্ভরতা, নিরাপত্তাহীনতা এবং মানসিক নিয়ন্ত্রণও নারীর সামনে অদৃশ্য বাধা তৈরি করে। কী পড়বেন, কোন পেশা বেছে নেবেন, কখন বিয়ে করবেন কিংবা নিজের জীবন কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবেন-এই সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রেই পরিবার বা সমাজ নিতে চায়। এর ফলে বহু নারী নিজেদের ইচ্ছা এবং স্বপ্ন থেকে পিছিয়ে যান বলে দাবি করেন রাহুল। তিনি বলেন, নারীকে নিজের যোগ্যতা কোনও পুরুষের কাছে প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই। নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। নিজের সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হবে।

আরএসএসকে নিশানা (Rahul Gandhi)
নারীর স্বাধীনতার প্রসঙ্গে মনুস্মৃতিকেও আক্রমণ করেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, নারীকে পুরুষ অভিভাবকের অধীনে রাখার ধারণা নারীর স্বাধীন সত্তার পরিপন্থী। এই মানসিকতা সমাজে নারীর উপর নিয়ন্ত্রণকে আরও শক্তিশালী করেছে বলেই দাবি তাঁর। শারীরিক হিংসা, যৌন হেনস্থা, কটূক্তি, সামাজিক বদনাম এবং নিরাপত্তার ভয়-এসবকেও নারীর স্বাধীনতার পথে বড় বাধা হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, এই ভয়ই অনেক সময় মেয়েদের শিক্ষা, চাকরি কিংবা নিজের পছন্দের জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। রাহুলের মূল বার্তা একটাই-নারীর পরিচয় কোনও পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিজের স্বপ্ন, নিজের সিদ্ধান্ত এবং নিজের ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতাই তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়।
আরও পড়ুন :
Saigal Hossain : অনুব্রতর প্রাক্তন দেহরক্ষিকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি

