AI Coding Express
Bengal Liberty: ঐতিহ্য আর আধুনিকতার হাতছানি পাহাড়ে। পাহাড়ের বুক চিরে চলা শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী টয়ট্রেন যাত্রার সঙ্গে এবার যুক্ত হতে চলেছে এক্কেবারে আধুনিক প্রযুক্তির পাঠ। ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকাভুক্ত দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR)-এর পক্ষ থেকে এক অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের তরুণ প্রজন্ম ও ছাত্রছাত্রীদের ডিজিটাল শিক্ষায় উৎসাহিত করতে আগামী সেপ্টেম্বরে পুজোর আগেই পাহাড়ে চালু হচ্ছে বিশেষ প্রযুক্তি সম্পন্ন ‘এআই কোডিং এক্সপ্রেস’। এর পাশাপাশি দার্জিলিং স্টেশনে আয়োজিত হতে চলেছে দু’দিনের জমজমাট সাংস্কৃতিক উৎসব।
চলন্ত কামরায় কোডিংয়ের পাঠ (AI Coding Express)
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর কার্শিয়াং-দার্জিলিং-কার্শিয়াং রুটে প্রথম যাত্রা শুরু করবে এই ‘এআই কোডিং এক্সপ্রেস’। পাহাড়ের মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে চলন্ত টয়ট্রেনের কামরায় বসে কোডিং ও কম্পিউটেশনাল স্কিলের বিশেষ পাঠ নেবে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা। পাহাড়ের তরুণ প্রজন্মকে ভিনরাজ্য বা শহরের গণ্ডি পেরিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ভবিষ্যতের প্রোগ্রামিং ভাষায় দক্ষ করে তোলাই এই বিশেষ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। চলন্ত ট্রেনের কামরায় বসেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রিয়েল-টাইমে সফটওয়্যার লজিক ও প্রোগ্রামিং শিখবে পড়ুয়ারা।

ঐতিহ্যের সঙ্গে ডিজিটাল বিপ্লব (AI Coding Express)
দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের অধিকর্তা ঋষভ চৌধুরী জানান, দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে কেবল একটি ট্রেন নয়, এটি পাহাড়ের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। একশো বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী বাষ্প ও ডিজেল চালিত ট্রেন যাত্রার রোমাঞ্চকে এবার যুক্ত করা হচ্ছে ভবিষ্যতের ডিজিটাল বিপ্লবের সঙ্গে। তাঁর কথায়, “এআই কোডিং এক্সপ্রেসের মাধ্যমে পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের হাতে আমরা আধুনিক প্রযুক্তির হাতিয়ার তুলে দিতে চাই। যেন তারা প্রকৃতির কোলে বসে সহজেই ভবিষ্যতের ভাষা—কোডিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিখতে পারে।”

স্টেশন মহোৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান (AI Coding Express)
কার্যত দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ঐতিহ্যবাহী স্টেশনগুলির একশো বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘স্টেশন মহোৎসব’-এরই অত্যন্ত আকর্ষণীয় অঙ্গ হলো এই ‘এআই কোডিং এক্সপ্রেস’। এই বিশেষ কোডিং যাত্রার পাশাপাশি দার্জিলিং স্টেশনে জমজমাটভাবে আয়োজিত হবে দু’দিনের বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক উৎসব। উৎসবে স্থানীয় লোকনৃত্য এবং সংগীতের আসরের পাশাপাশি থাকবে আকর্ষণীয় চিত্রাঙ্কন ও আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা। দার্জিলিং স্টেশনকে কেন্দ্র করে তৈরি বিশেষ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার দেখানো হবে।
এছাড়াও পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প এবং প্রত্নবস্তুর একটি বিশেষ প্রদর্শনীও থাকবে, যা পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আনন্দ দ্বিগুণ করবে।সব মিলিয়ে, পুজোয় পাহাড়ের টয়ট্রেন সফর এবার ছোটদের কাছে কেবল আনন্দ নয়, বরং প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
আরও পড়ুনঃ
Nanur TMC attack: নানুরে বিজেপি নেতার বাড়িতে বোমাবাজি, পার্টি অফিসে আগুন ও চাঞ্চল্যকর হুমকি

