Arabul Islam
Bengal Liberty : ভাঙড়ের রাজনীতিতে ফের দলবদলের হাওয়া। একসময় তৃণমূলের দাপুটে নেতা ছিলেন আরাবুল ইসলাম (Arabul Islam)। পরে তিনি যোগ দেন আইএসএফ-এ। সেখানেও অবশ্য বেশিদিন স্থির থাকেননি। এবার বিধানসভার অন্দরে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতে দেখা গেল তাঁকে। তাহলে কি ফের ‘ঘর ওয়াপসি’ হল আরাবুলের? হতে পারে, তবে সেটা কালীঘাটের তৃণমূলে নয়। এবার কি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন ‘তাজা’ নেতা? আইএসএফ ছাড়ার পর তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হতে চলেছে, তা নিয়ে জল্পনা চলছিলই। ঠিক সেই সময় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ সেই জল্পনায় আরও ইন্ধন জুগিয়েছে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও দলে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেননি আরাবুল। তবে সোমবারের সাক্ষাৎকে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবেই দেখছে না রাজনৈতিক মহলের একাংশ (Arabul Islam)।

তৃণমূল থেকে আইএসএফ, ফের ‘ঋত’ শিবিরের দিকে? (Arabul Islam)
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আইএসএফ-এ যোগ দিয়েছিলেন আরাবুল ইসলাম। দলবদলের সময় তাঁর অভিযোগ ছিল, তৃণমূলের জন্য দীর্ঘদিন প্রাণপাত করেও বারবার অপমানিত হয়েছেন তিনি। সেই ক্ষোভ থেকেই পুরনো দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন আরাবুল। কিন্তু নির্বাচনের কয়েক মাসের মধ্যেই নওশাদ সিদ্দিকির দলের বিরুদ্ধেও প্রায় একই সুরে অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি ছিল, আইএসএফ-এ একনায়কতন্ত্র চলছে। ভাঙড়জুড়ে দলের ‘লুম্পেন বাহিনী’ সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করছে বলেও অভিযোগ করেন আরাবুল। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদেই আইএসএফ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

তাঁর দলত্যাগের পর স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে-এবার কোথায় যাবেন আরাবুল? রাজনৈতিক মহলের একাংশের অনুমান ছিল, পুরনো দল তৃণমূলেই ফিরতে পারেন তিনি। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল, নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৈরি হওয়া পৃথক শিবির-কোন দলে যোগ দেবেন, তা নিয়ে সংশয় ছিল। সোমবার বিধানসভায় ঋতব্রতের ঘরে তাঁর উপস্থিতি সেই প্রশ্নের উত্তর অনেকটাই স্পষ্ট করে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

নওশাদের কটাক্ষ (Arabul Islam)
আইএসএফ ছাড়ার পর আরাবুলের মন্তব্য নিয়ে পাল্টা আক্রমণ করেছিলেন দলের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। তাঁর বক্তব্য ছিল, দল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন বলেই আরাবুলের বিরুদ্ধে কথা বলা হবে না, এমনটা নয়। কটাক্ষের সুরে নওশাদ বলেছিলেন, গ্রামের দিকে কিছু প্রাণীকে মুখে জাল দিয়ে রাখা হয়, যাতে তারা নোংরা কিছুতে মুখ না দেয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা মাঝেমধ্যে নোংরা-জঞ্জালে মুখ দেয়।
অপরদিকে আরাবুল আইএসএফ ছাড়ার পরই রবিবার সকালে পুড়িয়ে দেওয়া হয় আইএসএফ-এর পার্টি অফিস। রাতের অন্ধকারে আইএসএফের দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় ভাঙড় থানার শাকসর এলাকায়।
আরও পড়ুন :
Malda BJP Councillor:দুর্গাপুজো ঘিরে ‘দিদিগিরি’র অভিযোগ! কাঠগড়ায় মালদার বিজেপি কাউন্সিলর

