BrahMos Aerospace
Bengal Liberty
ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির(BrahMos Aerospace)বাজারে আসতে চলেছে আরও একটি বড় সাফল্য? দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পর এ বার পশ্চিম এশিয়ার বাজারে নিজেদের জায়গা করে নেওয়ার পথে ভারতীয়-রুশ যৌথ উদ্যোগে তৈরি সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মস। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিজেদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস। এখন সেই প্রস্তাব খতিয়ে দেখছে আমিরশাহি। শেষ পর্যন্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রথম দেশ হিসেবে ব্রহ্মস কিনতে পারে আমিরশাহি।

আমিরশাহির কাছে পৌঁছল ব্রহ্মসের প্রস্তাব(BrahMos Aerospace)
সাম্প্রতিক সময়ে আমিরশাহির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করেছে ভারত। সেই আলোচনার অংশ হিসেবেই ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস আমিরশাহি কর্তৃপক্ষের সামনে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাটির বিস্তারিত উপস্থাপনা করেছে এবং একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও জমা দিয়েছে। বর্তমানে সেই প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। আমিরশাহি সম্মতি দিলে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির ইতিহাসে এটি হতে পারে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
উপসাগরে প্রথম ক্রেতার হাতছানি(BrahMos Aerospace)
এই চুক্তি হলে আমিরশাহিই হবে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রথম দেশ, যারা ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র কিনবে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের কাছে এই সম্ভাবনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পশ্চিম এশিয়ার প্রতিরক্ষা বাজার বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক বাজার। আমিরশাহির দীর্ঘ-পাল্লার নির্ভুল হামলা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই ব্রহ্মসের সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা রফতানির জন্য আমিরশাহির মতো বড় বাজারে প্রবেশ নতুন দরজা খুলে দিতে পারে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ব্রহ্মস(BrahMos Aerospace)
ব্রহ্মস ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি একটি সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। স্থল, যুদ্ধজাহাজ এবং বিমান থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। এর গতি, নির্ভুলতা এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে ব্যবহারের সক্ষমতাই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রহ্মসের চাহিদা বাড়িয়েছে।

ভারতের তিন বাহিনীতেই ব্রহ্মসের ব্যবহার রয়েছে। এ বার সেই অভিজ্ঞতাকেই সামনে রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে ক্ষেপণাস্ত্রটির রফতানি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস। সংস্থাটির নিজস্ব রফতানি পরিকল্পনাতেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং পশ্চিম এশিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।শেষ পর্যন্ত সবুজ সংকেত মিললে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পর পশ্চিম এশিয়াতেও ব্রহ্মসের নতুন অধ্যায় শুরু হবে। আর আমিরশাহির সঙ্গে এই চুক্তি সফল হলে ভারতের তৈরি প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য আরও বড় আন্তর্জাতিক বাজারের দরজা খুলে যেতে পারে। এরই সঙ্গে আরও মজবুত হওয়ার পথে ভারত-আরব আমিরশাহির সম্পর্ক।


