Hindumahasobha
Bengal Liberty : কলকাতার রুবি মোড়ে দুর্গাপুজোর থিম ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক কৌতূহল (Hindumahasobha)। অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার উদ্যোগে এ বার পুজোর মূল ভাবনা ‘নন্দীগ্রাম টু নবান্ন, বুবাইয়ের জয়যাত্রা’। সংগঠনের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক সংগ্রাম, নন্দীগ্রাম থেকে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান এবং পরবর্তী সাফল্যের নানা পর্বই তুলে ধরা হবে পুজোর মণ্ডপে। সোমবার রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর নেতৃত্বে উপবাস ও সাত্ত্বিক আচার মেনে খুঁটি পুজোর মাধ্যমে এ বছরের পুজোর সূচনা করা হয় (Hindumahasobha)।

রাজনৈতিক সফরই পুজোর থিম (Hindumahasobha)
হিন্দু মহাসভার রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক যাত্রাকে সামনে রেখেই এ বার এই অভিনব থিম বেছে নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত এই বাংলায় সনাতনী জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উত্থানের প্রেক্ষাপটে শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক সাফল্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরতেই তাঁদের এই উদ্যোগ।পুজোর উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, মণ্ডপের ভিতরে বিভিন্ন ছবি ও ব্যানারের মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত জীবন এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে। শুধু তাই নয়, তাঁর নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক পর্ব থেকে শুরু করে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলি নিয়ে একটি তথ্যচিত্রও তৈরি করা হবে। মণ্ডপে প্রজেক্টর ও স্ক্রিনের মাধ্যমে সেই শর্ট ফিল্ম দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের।

শুভেন্দুকে আমন্ত্রণ, নন্দীগ্রামের বাড়িতেও যাবে পুজোর চিঠি (Hindumahasobha)
পুজোর উদ্বোধনে প্রধান অতিথি হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীকে আমন্ত্রণ জানাতে ইতিমধ্যেই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন হিন্দু মহাসভার নেতৃত্ব। সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, মন্ত্রী এবং সাধারণ মানুষকে আমন্ত্রণ জানিয়ে শীঘ্রই পুজোর কার্ড ও চিঠি পাঠানো হবে। শুধু আমন্ত্রণেই থামছে না উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনা। শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রামের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবা-মাকে পুজোর আমন্ত্রণ জানিয়ে আশীর্বাদ নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে সংগঠন। পাশাপাশি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শুভেন্দু-সমর্থকদের কাছ থেকে বার্তা, স্লোগান কিংবা তথ্যচিত্র সংগ্রহ করে তা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
এ বারের পুজোর আরও একটি বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে প্রতিমা। উদ্যোক্তাদের দাবি, কালীঘাটের ঐতিহাসিক হিন্দুমহাসভা ঘাটের মাটি দিয়েই তৈরি হচ্ছে দেবীর মূর্তি। ফলে রাজনৈতিক থিমের পাশাপাশি পুজোর আচার ও ঐতিহ্যকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। খুঁটি পুজো ও থিম ঘোষণার অনুষ্ঠানে রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামী ছাড়াও অনামিকা মণ্ডল, সন্দীপন সরকার, মহাদেব গুড়িয়া, আশা গায়েন, সঞ্জীব দে, প্রীতম বালা, অন্তরা দাস, অঞ্জন প্রসাদ মজুমদার, অমর্ত্য চ্যাটার্জী, চন্দ্রনাথ বোস-সহ হিন্দু মহাসভার একাধিক রাজ্য নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। সব মিলিয়ে, ধর্মীয় উৎসবের আবহে এ বার রুবি মোড়ের এই পুজোয় স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাই তুলে ধরতে চলেছে অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা।

