India Bangladesh
Bengal Liberty
দীর্ঘ কয়েক দিন ধরেই চলছিল টানাপোড়েন। একের পর এক জটিলতার(India Bangladesh)জেরে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হচ্ছিল। যদিও সরাসরি কোনও সংঘাতের আবহ তৈরি হয়নি, তবুও বোঝা যাচ্ছিল, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রেহমানের ভারত সফর বাতিল হতে পারে। তবে পুরোপুরি সফর বাতিল না হলেও এই মুহূর্তে ভারত সফর ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছেন তারেক রেহমান।

মুখে সম্পর্ক মজবুত করার কথা, কাজে উল্টো(India Bangladesh)
মুখে সম্পর্ক মজবুত করার কথা বললেও সেই পথে হাঁটেননি তারেক। উল্টে পদে পদে ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ তৈরি করেছেন তিনি। মালয়েশিয়া থেকে চীন সফরে যাওয়া থেকে শুরু করে হেলিকপ্টারের বরাদ্দ ভারতকে না দিয়ে চীনকে দেওয়ার মতো একাধিক ঘটনায় ভারতের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

যদিও এই বিষয়গুলি নিয়ে ভারতের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য আসেনি, তবুও কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি হচ্ছিল। আর এবার সরাসরি ভারত সফর অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় কিছুটা ব্যাকফুটে খালেদা-পুত্র। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই বিষয়ে কী মন্তব্য করেছেন, তা দেখে নেওয়া যাক।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের দাবি(India Bangladesh)
“শেখ হাসিনা এই মুহূর্তে ভারতে রয়েছেন, সেটা কারও অজানা নয়। বিভিন্ন কৌশলে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর জন্যই এই ধরনের মিষ্টি কথা বলা হচ্ছে। তবে তারেক রেহমানের ভারত সফর অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় কিছুটা হলেও রণকৌশলে ধাক্কা লেগেছে। এবার দেখার, আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সমীকরণ কোথায় গিয়ে পৌঁছয়।”
কী কারণে সফর ঘিরে জটিলতা(India Bangladesh)
শেখ হাসিনাকে ঘিরে তীব্র অসন্তোষ(India Bangladesh)
ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন ঢাকার রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ সরকার মনে করছে, এই ধরনের তৎপরতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পরিবেশকে নষ্ট বা ‘দূষিত’ করেছে।
প্রত্যর্পণের জোরালো দাবি(India Bangladesh)
ঢাকা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য পলাতক ব্যক্তিদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে স্পষ্ট জবাব ও পদক্ষেপ প্রয়োজন। এই প্রত্যর্পণের দাবির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রেহমানের দিল্লি সফর এগোচ্ছে না বলে দাবি করা হচ্ছে।
অনুকূল পরিবেশ ও শর্তসাপেক্ষ কূটনীতি(India Bangladesh)
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনও উচ্চপর্যায়ের সফরের আগে একটি অনুকূল ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হওয়া জরুরি। অতীতে ভারতের সঙ্গে যে নতজানু বা একপাক্ষিক মনোভাব দেখা যেত, বর্তমান সরকার সেখান থেকে সরে এসে জাতীয় স্বার্থ ও নিজেদের শর্তকে প্রাধান্য দিচ্ছে।
সম্পর্কের পুনর্গঠন(India Bangladesh)
ভারতের পক্ষ থেকে ব্রিকস সম্মেলন বা দ্বিপাক্ষিক সফরের আগ্রহ ও প্রস্তাব থাকলেও ঢাকা তাতে তাড়াহুড়ো না করার নীতি নিয়েছে। এর অর্থ হলো, দুই দেশের সম্পর্ক এখন আগের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বাভাবিক হচ্ছে না। বরং প্রতিটি পদক্ষেপে পারস্পরিক স্বার্থ এবং মতপার্থক্যগুলিকে কড়াভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সমীকরণ কি অন্য পথে(India Bangladesh)
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এস জয়শঙ্কর এই মুহূর্তে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় জরুরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। সেই সঙ্গে চিনে অজিত ডোভালের গুরুত্বপূর্ণ সফরও রয়েছে। এই সফরগুলির সঙ্গে কি তারেক রেহমানের ভারত সফর অনিশ্চিত হওয়ার কোনও যোগসূত্র রয়েছে? এই নিয়েই কূটনৈতিক মহলে জল্পনা তীব্র হচ্ছে। পাশাপাশি, ভূরাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা।


