Jaleswar yard
Bengal Liberty: দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়্গপুর ডিভিশনের অন্তর্গত জলেশ্বর স্টেশনে আধুনিকীকরণ ও ইয়ার্ড রিমডেলিংয়ের (Yard Remodeling) কাজের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন নিত্যযাত্রীরা। পর্যাপ্ত বিকল্প ব্যবস্থা ও পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ ট্রেন বাতিলের প্রতিবাদে রবিবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘বেলদা রেলযাত্রী ও নাগরিক কল্যাণ সমিতি’। সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল বেলদা স্টেশনে গিয়ে স্টেশন ম্যানেজারের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেয়।
কোন কোন ট্রেন বাতিল করা হয়েছে? (Jaleswar Local)
রেল দফতর সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জলেশ্বর স্টেশনে কাজের জন্য ২৬ অগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি লোকাল ও মেমু ট্রেন সম্পূর্ণ বা আংশিক বাতিল করা হয়েছে।
* ট্রেন নম্বর ৬৮৪৪২: পুরী-জলেশ্বর মেমু — ২৫.০৮.২০২৬ থেকে ২৯.০৮.২০২৬ পর্যন্ত বাতিল।
* ট্রেন নম্বর ৬৮৪৪০১: জলেশ্বর-পুরী মেমু — ২৬.০৮.২০২৬ থেকে ৩০.০৮.২০২৬ পর্যন্ত বাতিল।
* ট্রেন নম্বর ৬৮০০৭: হাওড়া-জলেশ্বর মেমু — ২৬.০৮.২০২৬ থেকে ০১.০৯.২০২৬ পর্যন্ত বাতিল।
* ট্রেন নম্বর ৬৮০০২: জলেশ্বর-হাওড়া মেমু — ২৭.০৮.২০২৬ থেকে ০২.০৯.২০২৬ পর্যন্ত বাতিল।

যাত্রীদের দুর্ভোগ, সংগঠনের দাবি (Jaleswar Local)
জলেশ্বর এবং বেলদা অঞ্চলের হাজার হাজার নিত্যযাত্রী প্রতিদিন কাজের সূত্রে এই ট্রেনগুলির উপর নির্ভর করেন। ট্রেনগুলি বন্ধ থাকায় ওই এলাকার যাত্রীদের চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। যাত্রীদের একাংশের দাবি, সড়কপথে বাস বা অন্যান্য যানবাহনে যাতায়াত করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ।
এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ে (হাওড়া-জকপুর) প্যাসেঞ্জারস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে খড়্গপুরের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারকে (DRM) একটি লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে। স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়েছে, জলেশ্বর স্টেশনে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চললেও ট্রেনগুলি সম্পূর্ণ বাতিল না করে যেন বেলদা স্টেশন থেকে সংক্ষিপ্ত রুটে (Short-originating and terminating) ট্রেন চালানো হয়।
সংগঠনের দাবি, এর ফলে জলেশ্বর স্টেশনের কাজের ক্ষেত্রে কোনও ব্যাঘাত ঘটবে না। পাশাপাশি, সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতের মূল সংযোগও বজায় থাকবে।

প্রতিনিধি দলের উপস্থিতি (Jaleswar Local)
এ দিন স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন ‘বেলদা রেলযাত্রী ও নাগরিক কল্যাণ সমিতি’র সভাপতি প্রদীপ দাস এবং সম্পাদক রামলাল রাঠি-সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা। যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ও প্রতিবাদের মুখে রেল প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ করে, এখন সেটাই দেখার।

