Bengal Liberty:
দুর্গাপুজোর আয়োজন ঘিরে এবার মালদায় বিতর্কের কেন্দ্রে বিজেপি কাউন্সিলর কৃষ্ণা নাথ। ইংরেজবাজার পুরসভার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের এই কাউন্সিলর ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে গিয়ে মহিলাদের সঙ্গে বচসা, হাতাহাতি এবং মারধরের অভিযোগ উঠেছে (Malda BJP Councillor)। এমনকি পুজোর আয়োজন করলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ স্থানীয় মহিলাদের। ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত (Malda BJP Councillor)
ঘটনাটি মালদার কৃষ্ণপল্লির গোসাই মাঠ এলাকার। স্থানীয় মহিলাদের অভিযোগ, রবিবার রাতে দুর্গাপুজোর আয়োজন নিয়ে বৈঠক চলছিল। সেই সময় কাউন্সিলর ও তাঁর দলবল সেখানে হাজির হন। এরপরই বচসা থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুর্গাপুজো আয়োজন কমিটির সদস্যদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে কৃষ্ণা নাথের বিরুদ্ধে। এমনকি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মহিলাদের অভিযোগ, ইংরেজবাজার থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ অভিযোগ নেয়নি। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকে জানাবেন বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।
ঘটনার প্রেক্ষিতে মহিলাদের দাবি, তাঁরা হিন্দু এবং যাঁরা পুজোয় আপত্তি করছেন, তাঁরাও হিন্দু। তাহলে দুর্গাপুজো আয়োজনে আপত্তির কারণ কী, সেই প্রশ্নই তুলেছেন তাঁরা।

অভিযোগ অস্বীকার (Malda BJP Councillor)
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি কাউন্সিলর কৃষ্ণা নাথ। তাঁর দাবি, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে ছয়-সাতটি পুজো হয় এবং তাঁর আমলেই বেশ কয়েকটি নতুন পুজো শুরু হয়েছে। তাঁর কথায়, এই ঘটনায় সিপিএমের লোকজন সমাজকে বিভক্ত করে শাসন কায়েমের চেষ্টা করছে। কাউন্সিলরের দাবি, ৫০ মিটারের মধ্যেই শতাব্দীপ্রাচীন একটি পুজো হয়। নতুন করে পুজো হলে সেই পুজোর জৌলুস কমবে এবং সাধারণ মানুষের উপর চাঁদার বোঝা বাড়বে বলে স্থানীয় বাসিন্দারাই তাঁকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন।
তবে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই উঠছে বড় প্রশ্ন। ঘটনাটি কি সত্যিই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, নাকি ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখানোর চেষ্টা? দুর্গাপুজোর মতো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব নিয়েও যদি রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা ও উৎসব পালনের অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলছে নাগরিক সমাজ।


