One Nation One Election
Bengal Liberty
২০১৪ সাল থেকে কেন্দ্রে মোদি সরকারের(One Nation One Election)আমলে একের পর এক নজিরবিহীন পদক্ষেপের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে অসম্ভবকে সম্ভব করার লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকার। তীব্র বিরোধিতাকে উপেক্ষা করে একের পর এক সাফল্যের সিঁড়ি তৈরি করে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহরা।

অগ্রগতির আরেক নাম মোদি(One Nation One Election)
যে কাজগুলি বিগত সরকারের আমলে হয়নি, সেই কাজগুলিই সম্পূর্ণ করে দেশবাসীর মন জয় করেছে বিজেপি—এমনটাই দাবি দলের। কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা থেকে শুরু করে অযোধ্যার রামমন্দির কিংবা সংখ্যালঘু মহিলাদের জন্য তিন তালাক প্রথা নিষিদ্ধ করা—সব কিছুর ঊর্ধ্বে দেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে বিরোধিতার মুখেও এখনও জনপ্রিয়তার শিখরে রয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।
নতুন চ্যালেঞ্জ(One Nation One Election)
এবার ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে বহু প্রতীক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ ‘এক দেশ, এক ভোট’ নীতি কীভাবে কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। এই বিষয়ে যৌথ কমিটি একটি রিপোর্ট পেশ করবে। সব কিছু নিয়ম মেনে এগোলে ২০৩৪ নয়, ২০২৯ সালেই ‘এক দেশ, এক ভোট’ চালু করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার।তার অর্থ দাঁড়াবে, ২০৩১ সালের পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনের মেয়াদ রয়েছে এমন পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলিতেও ২০২৯ সালেই নতুন করে নির্বাচন হতে পারে।

এতে নির্বাচনের জন্য বারবার সময় ও প্রশাসনিক সম্পদের অপচয় কমবে। সাধারণ মানুষের সুবিধার কথাও মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই যৌথ কমিটি রিপোর্ট পেশ করে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করবে।এই মুহূর্তে ভারতবর্ষের ২২টি রাজ্যে এনডিএ-শাসিত সরকার চলছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিল পাশ হলে ২০২৯ সালের জানুয়ারি মাসেই বর্তমান সরকারগুলির মেয়াদ শেষ করে নতুন করে নির্বাচন হতে পারে। এতে অনেকেরই প্রশ্ন থাকবে—‘এক দেশ, এক ভোট’ হলে সাধারণ মানুষের লাভ কী?
এক দেশ, এক ভোটের সুবিধা(One Nation One Election)
আর্থিক সাশ্রয়(One Nation One Election)
বারবার নির্বাচন আয়োজনের ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হয়। একসঙ্গে নির্বাচন হলে নিরাপত্তাকর্মী, ভোটকর্মী এবং নির্বাচনী সরঞ্জাম বাবদ খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
প্রশাসনিক কাজে গতি(One Nation One Election)
আলাদা আলাদা সময়ে ভোট হলে সরকারি কর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীকে বারবার নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত করতে হয়। ফলে নিয়মিত প্রশাসনিক কাজ ও জনসেবা ব্যাহত হয়। একসঙ্গে ভোট হলে এই সমস্যা অনেকটাই কমবে এবং প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নমূলক কাজে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।
নীতি প্রণয়নে মনোযোগ(One Nation One Election)
প্রতি বছরই দেশের কোথাও না কোথাও নির্বাচন লেগেই থাকে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলিকে প্রায় সব সময়ই প্রচারে ব্যস্ত থাকতে হয়। একসঙ্গে নির্বাচন হলে রাজনৈতিক নেতৃত্ব নীতি প্রণয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে বেশি সময় দিতে পারবে।
আদর্শ আচরণবিধির প্রভাব থেকে রেহাই(One Nation One Election)
বারবার নির্বাচন হলে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার কারণে অনেক সময় নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা বা কাজ আটকে থাকে। ‘এক দেশ, এক ভোট’ চালু হলে এই ধরনের স্থবিরতা অনেকটাই কাটতে পারে।
কালো টাকার প্রভাব কমানো(One Nation One Election)
ঘন ঘন নির্বাচন হলে রাজনৈতিক প্রচারের পেছনে বিপুল অর্থ খরচ হয় এবং কালো টাকার ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। নির্বাচন একসঙ্গে হলে এই ব্যয় এবং অবৈধ অর্থের ব্যবহারের সুযোগ অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে মনে করা হয়। এর পাশাপাশি নির্বাচনী দুর্নীতির প্রবণতাও কমতে পারে। এসআইআরের মতো জটিল পরিস্থিতি সামলে বিহার, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও হাই-প্রোফাইল রাজ্যগুলিতে সফলভাবে নির্বাচন পরিচালনার পর পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ অবশ্যই ‘এক দেশ, এক ভোট’। আরও একবার কি অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারবে মোদি সরকার? সেই দিকেই নজর থাকবে দেশবাসীর।


