ED Recalls Partha and Arpita
Bengal Liberty
রাজ্যে এসএসসি এবং প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মিলিয়ে ৭০২ কোটির টাকা আত্মসাৎ করার দাবি করল ইডি। এসএসসি গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি নিয়োগ দুর্নীতিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের নামে চার্জশিট দিয়েছে ইডি। তাতেই দুর্নীতির অঙ্ক জানানো হয়েছে (Partha Chatterjee)।
পশ্চিমবঙ্গের SSC গ্রুপ-C এবং গ্রুপ-D কর্মী নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অর্পিতা মুখোপাধ্যায়, কুন্তল ঘোষ-সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে প্রথম সম্পূরক প্রসিকিউশন কমপ্লেন্ট দায়ের করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট । ২০ আগস্ট কলকাতার বিশেষ PMLA আদালতে এই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। ২২ জানুয়ারি ২০২৫-এ দায়ের হওয়া মূল প্রসিকিউশন কমপ্লেন্টের ধারাবাহিকতাতেই এই সম্পূরক অভিযোগপত্র বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।


কোটি কোটি টাকা উদ্ধার Partha Chatterjee
CBI-এর কলকাতা ACB শাখায় দায়ের হওয়া FIR-এর ভিত্তিতেই SSC গ্রুপ-C ও গ্রুপ-D নিয়োগ দুর্নীতিতে ED তদন্ত শুরু করেছিল। তদন্তে OMR শিটে নম্বর কারচুপি, র্যাঙ্ক জাম্পিং, জাল ও পিছনের তারিখে সুপারিশপত্র তৈরি, প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিয়োগ এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি দেওয়ার মতো একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে।
ED-এর দাবি, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় WBCSSC এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির উপর প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তাঁর নির্দেশে অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করা হয়। পরে প্রসন্ন কুমার রায় সহ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সেই তালিকা সুপারিশপত্র ও নিয়োগপত্র দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছিল।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, একটি মধ্যস্থতাকারী ও এজেন্ট চক্র চাকরিপ্রার্থীদের নিশ্চিত নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল টাকা আদায় করত। গ্রুপ-C পদের জন্য প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লক্ষ টাকা এবং গ্রুপ-D পদের জন্য প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল বলে ED-এর অভিযোগ। প্রসন্ন কুমার রায়কে এই চক্রের অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ED-এর হিসাব অনুযায়ী, SSC গ্রুপ-C ও গ্রুপ-D নিয়োগ দুর্নীতিতে অপরাধলব্ধ অর্থের পরিমাণ কমপক্ষে ৬৩০.৪০ কোটি টাকা। তদন্তকারীদের দাবি, র্যাঙ্ক জাম্পিং, প্যানেলের বাইরে নিয়োগ, প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিয়োগ এবং RTI বা পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় কারচুপির মতো পদ্ধতির কারণে প্রকৃত অপরাধলব্ধ অর্থের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।

অভিযোগ, এই অপরাধলব্ধ অর্থ সহযোগী, প্রক্সি এবং শেল বা ডামি সংস্থার মাধ্যমে গোপন করা এবং বিভিন্ন সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৪৯.৮০ কোটি টাকা নগদ এবং প্রায় ৫.০৮ কোটি টাকা মূল্যের সোনা ও গয়না বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, অর্পিতা বেআইনি অর্থের রক্ষক হিসেবে কাজ করেছিলেন এবং একাধিক শেল ও ডামি সংস্থার সঙ্গে তাঁকে যুক্ত করা হয়েছিল।
SSC গ্রুপ-C ও গ্রুপ-D নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৪৭.৩৫ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ED বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। SSC ও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত মামলাগুলিতে এখনও পর্যন্ত ৭০২ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের অপরাধলব্ধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলেও দাবি তদন্তকারী সংস্থার।
ED-এর এই প্রথম সম্পূরক প্রসিকিউশন কমপ্লেন্টের ফলে SSC নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আর্থিক তদন্ত ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তির প্রক্রিয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছল।

