NRS Hospital News
Bengal Liberty:
রক্তদান শিবিরকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এবার এই তদন্তে নাম জড়াল কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বা NRS-এর। অভিযোগ, বিভিন্ন বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের আয়োজিত রক্তদান শিবিরে নিয়ম ভেঙে ডাক্তার সেজে রক্ত সংগ্রহের কাজে যুক্ত থাকতেন কিছু MBBS পড়ুয়া। তাঁদের অনেকেই তখনও প্রথম বা দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

নামী কলেজের পড়ুয়ারা (Blood Scam)
ইতিমধ্যেই এই অভিযোগের সূত্রে এসএসকেএম-সহ একাধিক সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের নাম সামনে এসেছে। এবার NRS-সহ মোট তিনটি নামী মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়াদের নাম তদন্তকারীদের নজরে এসেছে বলে সূত্রের খবর। শুধু তাই নয়, এমন শতাধিক মেডিক্যাল পড়ুয়া ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম স্বাস্থ্য দফতরে জমা পড়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। অভিযোগ, পাড়ায় পাড়ায় আয়োজিত রক্তদান শিবিরে তাঁদের ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দিয়ে রক্ত সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করা হত।
অভিযোগ আরও গুরুতর হয়ে উঠেছে, কারণ চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রথম বা দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়াদের দিয়ে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাজ করানো হলে তাঁদের প্রশিক্ষণ ও দায়িত্ব পালনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে, কার নির্দেশে তাঁদের শিবিরে নিয়ে যাওয়া হত এবং রক্ত সংগ্রহের পর সেই রক্ত কোথায় যেত।

ঘটনার সূত্রপাত (Blood Scam)
এই গোটা ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ জুন। দক্ষিণ কলকাতার পদ্মপুকুরের হেলথ পয়েন্ট ব্লাড ব্যাঙ্কের রক্তের স্টক মেলাতে গিয়ে প্রথম বড়সড় গরমিলের সন্ধান মেলে। তদন্তে উঠে আসে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ভিনরাজ্যের বিভিন্ন ব্লাড ব্যাঙ্কে প্রায় ৬ কোটি টাকার লোহিত রক্তকণিকা ও প্লাজমা বিক্রি করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭,৮০০ লিটার লোহিত রক্তকণিকা প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
এরপরই গোটা চক্রের তদন্তে নামে স্বাস্থ্য দফতর। প্রায় ১০০ কোটি টাকার রক্ত ও প্লাজমা সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একাধিক বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করে তদন্ত চলছে। সেই তদন্তেই এবার সরকারি মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়াদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ফলে এই চক্রে আর কারা জড়িত এবং কীভাবে রক্ত ও প্লাজমার কারবার চলত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
Blood Scam
উল্লেখ্য, এই দুর্নীতিতে আগেই এসএসকেএম হাসপাতালের একাংশ মেডিক্যাল পড়ুয়ার নাম জড়িয়েছিল। অভিযুক্ত পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য দফতরে ডেকেও পাঠানো হয়েছিল। এরপর শহরের আরও একটি নামী সরকারি মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়াদের নামও তদন্তে উঠে আসে। এবার NRS-এর নাম সামনে আসায় রক্ত-দুর্নীতির এই চক্রের জল আরও কতদূর গড়ায়, সেই দিকেই নজর রয়েছে সব মহলের।

আরও পড়ুনঃ তৃণমূল থেকে কংগ্রেসে যোগদানে রাশ টানল এআইসিসি! কোন্দলে জেরবার প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব

