East Bengal
Bengal Liberty
প্রত্যেক মরসুমেই ডার্বি ম্যাচের পর কাদাপাড়ায় ঝামেলা হবে—এ যেন অলিখিত নিয়ম। মোহনবাগান জিতলে(East Bengal) ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেরা আক্রান্ত হন, আবার ইস্টবেঙ্গল জিতলে মোহনবাগান সমর্থকদের আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। বছর পর বছর ধরে একই ধরনের অসুস্থ সংস্কৃতি চলে আসছে। সরকার বদলালেও এই লজ্জার ঐতিহ্যের কোনও পরিবর্তন হয়নি। এবারের ডার্বিতেও তার ব্যতিক্রম হল না। তবে ঘটনা একই থাকলেও এবার চরিত্রগুলি বদলে গিয়েছে। রবিবার ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ৪-১ গোলে মোহনবাগানকে উড়িয়ে দিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। আর তার পরেই কাদাপাড়ায় ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের আঙুল সরাসরি মোহনবাগান সমর্থকদের দিকে। এই ঘটনায় রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খানকে চিঠি দিয়েছে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

ডার্বির পরে উত্তেজনা তুঙ্গে(East Bengal)
কাদাপাড়ায় ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগের ছবি ও চিঠি ক্লাব কর্তৃপক্ষের তরফে ক্রীড়ামন্ত্রীকে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। সোমবার ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে এই ইস্যুতে দেখাও করেন লাল-হলুদের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। পরে তিনি বলেন, “এভাবে দিনের পর দিন চলতে দেওয়া যায় না। ডার্বির পর আমাদের সমর্থকেরা কাদাপাড়া দিয়ে গেলেই মার খাচ্ছেন। এর প্রতিকার করতেই হবে। তার জন্য যত দূর যাওয়ার, আমরা যাব।”

এ দিন সকালে ক্লাবের পতাকা উত্তোলনের পর দেবব্রত সরকার বলেন, “দু’দলের সমর্থকদের ভাষা প্রয়োগেও কিছুটা লাগাম টানতে হবে। মাঠে যাওয়ার সময় ময়দানে বা রাস্তায় যে ভাষায় এক দলের সমর্থক অন্য দলের সমর্থকদের গালিগালাজ করেন, তা দেখে ভদ্র পরিবারের বাবা-মায়েরা তাঁদের সন্তানদের কখনও ফুটবল মাঠে পাঠাবেন না। সমর্থকদের মাথায় রাখতে হবে, তাঁরা ক্লাবের পরিচয় বহন করছেন। তাঁদের আচরণই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাঠে টেনে আনবে। অনেক মহিলাও এখন মাঠে আসা শুরু করেছেন। ফলে প্রত্যেকের কথা ভেবেই সমর্থকদের আরও সংযত হওয়া উচিত।”
ডার্বি মানেই কি সংঘর্ষ(East Bengal)
১৬ অগস্টের সেই অভিশপ্ত দিন হোক কিংবা বছরের পর বছর ধরে চলে আসা কাদাপাড়ার ঘটনা—খেলোয়াড়, সময়, এমনকি সরকার পরিবর্তন হলেও ডার্বির সঙ্গে সংঘর্ষের ছবি কেন জড়িয়ে থাকবে? কেন একই দৃশ্য বারবার দেখতে হবে? বিদেশেও ডার্বি হয়, অনেক বেশি সংখ্যায় হয়।

তবে সেখানে এই ধরনের ঘটনার উদাহরণ তুলনামূলক ভাবে অনেক কম। ম্যাচের আগে খেলার উত্তেজনা ধরে রাখতে পরম বন্ধুও ৯০ মিনিটের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে যান। কিন্তু ম্যাচ শেষ হলেই ফলাফলকে পাশে সরিয়ে রেখে ফের তাঁরা একসঙ্গেই জীবনের বাকি কাজ করেন। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে, কলকাতার ফুটবলে সেই উদাহরণ এখনও নামমাত্র। কবে বন্ধ হবে ডার্বিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ? এই প্রশ্নেই সরব ক্রীড়ামহল।


