West Bengal Border
Bengal Liberty
ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে ভারতীয় কৃষকদের জমি বেআইনিভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছে দাদন (লিজ) দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ সামনে এল। তেহট্ট বিধানসভা এলাকার সীমান্তবর্তী আন্তর্জাতিক সীমারেখায় এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই কড়া অবস্থান নিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (India Bangladesh Border)। সীমান্ত নিরাপত্তা সুসংহত করতে এবং এই ধরণের অনুপ্রবেশ ও বেআইনি কর্মকাণ্ড রোধে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ করেন বিএসএফ কর্তারা। আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যে বিএসএফের পদস্থ আধিকারিকেরা স্থানীয় বিধায়ক সুব্রত কবিরাজ এবং প্রধান শম্পা মন্ডল-সহ গ্রামবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভাটুপাড়া গ্রামে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হন।

বিএসএফের কড়া নজরদারি India Bangladesh Border
আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখা এবং কাঁটাতারের ওপারে থাকা ভারতীয় কৃষিজমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা সংক্রান্ত চরম জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। কাঁটাতারের ওপারে কষ্টার্জিত ফসল ফলানোর পর বাংলাদেশিরা তা জোরপূর্বক কেটে নিয়ে চম্পট দিত বলে ভূরি ভূরি অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের ক্রমাগত অত্যাচার এবং ফলানো ফসল ঘরে তুলতে না পারার ফলে দিনের পর দিন বিপুল ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছিল ভারতীয় চাষিদের। এহেন পরিস্থিতিতে নিরুপায় হয়ে ভারতীয় চাষিদের একাংশ মৌখিক চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশিদের জমি দাদন দিয়ে দিচ্ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

এমনকি নজরদারি এড়াতে বেআইনি লেনদেন চলত অনলাইনের মাধ্যমে। জমি চাষের অজুহাতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের এই অবাধ যাতায়াত জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চরম ঝুঁকি তৈরি করছিল। অতীতে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা ভারতীয় কৃষক এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএসএফ জওয়ানদের ওপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছে।

ক্ষতির মুখে ভারতীয় কৃষকরা

তথ্য সামনে আসার পরেই আন্তর্জাতিক সীমান্তে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং ভারতীয় ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে বিএসএফ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে জিরো পয়েন্টের পরিস্থিতি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। বিএসএফের সঙ্গে বৈঠকের পর তেহট্টের বিধায়ক সুব্রত কবিরাজ স্পষ্টভাবে জানান, ভারতীয় জমিতে কোনোভাবেই বাংলাদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না এবং স্থানীয় চাষিদের সীমান্ত সংক্রান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনী পূর্ণ বদ্ধপরিকর। এরপরেও কোনও চাষি গোপনে জমি দাদন দিলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে এলাকায় কোনও সন্দেহভাজন বা অনুপ্রবেশকারীর আনাগোনা চোখে পড়লেই তৎক্ষণাৎ বিএসএফকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তেহট্ট সীমান্ত ছাড়াও অন্যান্য সংবেদনশীল এলাকা বা শূন্যরেখায় এই ধরণের বেআইনি লেনদেন বা অনুপ্রবেশ ঘটছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে বিএসএফ জওয়ানরা বিশেষ নজরদারি ও তল্লাশি অভিযান শুরু করেছেন।

