India China
Bengal Liberty
অজিত ডোভালের সীমান্ত-সংক্রান্ত আলোচনা এবং চীনের ভাইস-প্রেসিডেন্টের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক(India China) বৈঠকের মধ্যেই ফের অরুণাচল প্রদেশের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা এলাকায় ‘ড্রাগনের’ চোখরাঙানি। ওই অঞ্চলে ক্রমশ চীনা সেনা দফায় দফায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে চলছে চাপা উত্তেজনা। এরই মধ্যে আগামী মাসে রাজধানী দিল্লিতে দু’দিনের ব্রিক্স শীর্ষ সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উপস্থিত থাকতে পারেন।

ব্রিক্স শীর্ষ সম্মেলনে বিশেষ বার্তা দেওয়ার চেষ্টা(India China)
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বসতে চলেছে ‘ব্রিক্স’ শীর্ষ সম্মেলনের আসর। বিশ্বের তাবড় রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন চীনা প্রেসিডেন্ট। তবে চীনা প্রেসিডেন্ট একা নন। সূত্রের খবর, ৪০০ জনের প্রতিনিধি দল নিয়ে তিনি দিল্লিতে পা রাখতে পারেন। কিন্তু শি জিনপিং কেন অরুণাচল প্রদেশে নিজেদের খবরদারি ও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছেন? ভারত ও নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে বিশেষ কোনও বার্তা দেওয়ার লক্ষ্যেই কি নতুন চাল চালছে চীন?
কেন ব্রিক্স শীর্ষ সম্মেলনে চীন(India China)
প্রথম কথা, ব্রিক্সের নামের মধ্যেই এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় কারণ হিসেবে উঠে আসছে ভারতে চীনা প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য এই সফর। এমন এক সময় এই সফর হতে চলেছে, যখন অরুণাচলে চীনা আগ্রাসনের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে এলএসি সংলগ্ন ২৭টি এলাকার নাম বদল করেছে দিল্লি।
পাখির চোখ অরুণাচল(India China)
অরুণাচল প্রদেশকে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে চীন। অন্যদিকে, বেজিংয়ের এই দাবি বারবার খারিজ করে দিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অরুণাচল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একই সঙ্গে ‘চিকেন’স নেক’-এর কৌশলগত গুরুত্বও বারবার দুই দেশের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
ভারত ও চীনের সীমান্ত উত্তেজনা(India China)
ভারতের সঙ্গে ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত ভাগ করে চীন। এই সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের বিবাদ দীর্ঘদিনের। ২০২০ সালের ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় মুখোমুখি হয় ভারত ও চীনের সেনা। দু’পক্ষের জওয়ানরা লোহার রড ও কাঁটাতার জড়ানো হাতিয়ার নিয়ে বেশ কয়েক ঘণ্টা লড়াই করেন। রক্তক্ষয়ী সেই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান শহিদ হন। ১৯৭৫ সালের পর সেই প্রথম প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পরেই সীমান্তে কার্যত যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কেরও অবনতি ঘটে।

এর আগে ১৯৬২ সালের সিনো-ইন্ডিয়ান যুদ্ধ ২০ অক্টোবর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত চলেছিল। সেই যুদ্ধে দুর্বল নেতৃত্বের কারণেই ভারতের পিঠে ছুরি বসিয়েছিল চীন। তারপরেও ভারতের তরফে বন্ধুত্বের হাত বাড়ানো হলেও চীনের তরফে অতিরিক্ত আগ্রাসন সহ্য করতে হয়েছে। এমনকি গালওয়ান উপত্যকাতেও একই ছবি দেখা গিয়েছে।এই পরিস্থিতির নেপথ্যে ভারতের ‘পরম শত্রু’ পাকিস্তানের ভূমিকাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং আদৌ ভারত-চীন সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে কি না, তা নিয়েই ভূরাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।


