SSC Scam
Bengal Liberty : স্কুলে চাকরি পাওয়ার জন্যও কি পদ অনুযায়ী নির্দিষ্ট ‘দাম’ ঠিক করা ছিল (SSC Scam)? এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছে ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি পাইয়ে দিতে পদভেদে ১০ থেকে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হত। গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি-র ক্ষেত্রে আলাদা ‘রেট’ থাকারও দাবি করেছে ইডি। নতুন এই তথ্য সামনে আসতেই ফের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়োগ দুর্নীতি মামলা (SSC Scam)।

গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি-তে কত লক্ষ? (SSC Scam)
ইডির দাবি, গ্রুপ সি পদে চাকরি পাইয়ে দিতে নেওয়া হত প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লক্ষ টাকা। গ্রুপ ডি পদের ক্ষেত্রে সেই অঙ্ক ছিল ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, পদ অনুযায়ী চাকরির জন্য নির্দিষ্ট টাকা নেওয়ার একটি ব্যবস্থা চালু ছিল বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের। তবে শুধু টাকা দিলেই চাকরি নিশ্চিত করা হত না। নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপেও কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। প্রার্থীদের র্যাঙ্ক বদলে ‘র্যাঙ্ক জাম্প’ করানো হত বলে দাবি ইডির। ওএমআর শিটে কারচুপি এবং প্যানেলের বাইরে নিয়োগের অভিযোগও রয়েছে।

প্যানেল শেষ, তবুও নিয়োগ! (SSC Scam)
ইডির চার্জশিটে নিয়োগ দুর্নীতির একাধিক পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ, প্যানেলের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও নিয়োগ করা হয়েছে। কোথাও আবার পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে অনিয়ম করা হয়েছে।চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা তোলার জন্য একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক কাজ করত বলেও দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। সেই নেটওয়ার্কে মধ্যস্থতাকারী ও দালালদের ভূমিকার পাশাপাশি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগসূত্রও খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্নীতির অঙ্ক ৬৩০ কোটির বেশি! (SSC Scam)
ইডির দাবি, তদন্তে এখনও পর্যন্ত নিয়োগ দুর্নীতির আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৬৩০.৪ কোটি টাকা বলে উঠে এসেছে। তবে তদন্ত এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। আরও লেনদেন ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এলে এই অঙ্ক বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। চার্জশিটে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। ইডির দাবি, শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে এসএসসি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির উপর তাঁর ব্যাপক কর্তৃত্ব ছিল। সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করেই অবৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের পাশাপাশি কুন্তল ঘোষ এবং প্রসন্ন রায়ের নামও রয়েছে। দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর বর্তমানে পার্থ ও অর্পিতা জামিনে রয়েছেন।
আরও পড়ুন :
Kolkata Metro: বরানগর থেকে ব্যারাকপুর ছুটবে মেট্রো! পিঙ্ক লাইনে ছাড়পত্র কলকাতা পুরসভার

