Bengal Liberty
বাংলাদেশের মাটিতে আল কায়েদা-উপমহাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এক সদস্য সক্রিয় রয়েছেন (Bangladesh Terrorism)। উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে দেশ জুড়ে। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে বাংলাদেশের তারেক রহমান সরকারকে নিশানা করেছেন সজীব ওয়াজেদ। তাঁর দাবি, সংগঠনের ‘দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা’ ইক্রামুল হক ওরফে আবু তালাহ বাংলাদেশে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

ইক্রামুলকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ
রাজ্য পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিকের দাবি, ইক্রামুল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ-র মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছেন। ভারতে জঙ্গি কার্যকলাপ সংক্রান্ত অন্তত ১০টি মামলায় তাঁর নাম রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, ময়মনসিংহের বাসিন্দা ইক্রামুল ২০১৮ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দে আসেন। সেখানেই আল কায়েদার মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে পরবর্তীতে আল কায়েদা-উপমহাদেশের নিয়োগ বা ‘দাওয়া’ বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হন।

এনআইএ-র তদন্ত অনুযায়ী, ইক্রামুল পশ্চিমবঙ্গে প্রায় দু’বছর ছিলেন। কোচবিহারের দিনহাটার এক দম্পতিকে নিজের বাবা-মা পরিচয় দিয়ে ভারতীয় নথি ও পাসপোর্ট তৈরির অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তদন্তকারীদের দাবি, এই সময় মধ্যপ্রদেশ থেকে গুজরাত পর্যন্ত একাধিক স্লিপার সেল ও মডিউল গড়ে তুলেছিলেন তিনি।
২০২২ সালে তাঁর কয়েকজন সহযোগী গ্রেফতার হওয়ার পর ইক্রামুল চোরাপথে বাংলাদেশে পালিয়ে যান বলে তদন্তকারীদের দাবি। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ঢাকায় স্ত্রী-সহ তাঁকে গ্রেফতার করা হলেও ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর জামিনে মুক্তি পান তিনি। এরপর থেকেই তাঁর কোনও নির্দিষ্ট খোঁজ মেলেনি। বাংলাদেশের পুলিশের কাছেও তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য নেই বলে দাবি গোয়েন্দাদের।

IED উদ্ধারে বাড়ছে গোয়েন্দা তৎপরতা
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রের অভিযোগ, হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে বিভিন্ন জঙ্গি মামলায় অভিযুক্ত প্রায় ৩৭০ জন জামিন পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আনসার-উল-বাংলা টিমের প্রতিষ্ঠাতা মুফতি জসিমুদ্দিন রহমানি এবং জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবির বহু সদস্য রয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে আইইডি উদ্ধারের ঘটনাও গোয়েন্দাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে আশুলিয়া ও ঢাকার মতিঝিল থেকে দুটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আইইডি উদ্ধারের খবর সামনে আসে। এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকার একটি মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের তদন্তে সেখানে আইইডি তৈরির ব্যবস্থার সন্ধান পাওয়ার দাবি করা হয়েছিল।
রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট রিপোর্টেও বাংলাদেশকে ব্যবহার করে আল কায়েদা-উপমহাদেশের সংগঠন বিস্তারের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, আফগানিস্তানকে ঘাঁটি করে সংগঠনটি দক্ষিণ এশিয়ায় ছোট ছোট সেল ও মডিউলের মাধ্যমে নিজেদের নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা করছে। জেএমবির মতো পুরনো সহযোগী সংগঠনগুলিকে অর্থ ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে ভারতের উদ্বেগও বাড়ছে। সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে নজরদারি জোরদার করা হলেও, আগে থেকে তৈরি হওয়া স্লিপার সেল ও জঙ্গি মডিউলগুলিকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। সম্প্রতি বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে ‘র’-এর শীর্ষ আধিকারিকদের বৈঠকও এই প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

