Bengal Liberty
নেপালে শুটিং করতে গিয়ে হড়পা বানের জেরে বিপাকে পড়েছেন অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায় (Kharaj Mukherjee)। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রীও। তবে তাঁরা বিপর্যয়ের মূল এলাকা থেকে বেশ কিছুটা দূরে থাকায় দু’জনেই নিরাপদে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন খরাজের ছেলে বিহু।
বিহু জানান, বর্তমানে পোখরায় শুটিং চলছিল। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে মাঝেমধ্যেই শুটিংয়ে ব্যাঘাত ঘটছিল। তিনি বলেন, ‘‘বাবা-মা দু’জনেই এখন পোখরায় রয়েছেন। অন্যান্য কলাকুশলীরাও সেখানেই আছেন। সকলেই ভাল আছেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে তাঁরা অনেকটাই দূরে রয়েছেন।’’

স্ত্রী-সহ নিরাপদে অভিনেতা Kharaj Mukherjee
বিহু আরও জানান, সস্ত্রীক খরাজ এবং শুটিংয়ের অন্যান্য সদস্যরা উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর হয়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিমান পরিষেবায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এদিকে, প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ের সূত্রপাত চিনের তিব্বত অঞ্চলে। সেখান থেকে জল নেমে নেপালের রাসুয়া জেলায় ঢোকে। কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই জেলার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে ভোটেকোশী নদী। বুধবার সকাল থেকে আচমকাই নদীর জলস্তর বাড়তে শুরু করে। এরপরই চিন সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় হড়পা বান নামে। আকস্মিক বন্যায় বিস্তীর্ণ এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

চিনের সংবাদ সংস্থা ‘সিনহুয়া’-র খবর অনুযায়ী, হড়পা বানে তিব্বতের গাইরং প্রদেশ-সহ একাধিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানেও বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। হড়পা বানের প্রকৃত কারণ নিয়ে একাধিক মত সামনে এসেছে। নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ জানিয়েছে, রাসুয়ায় অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে, এমন সম্ভাবনা কম। ফলে তিব্বত থেকে বিপুল পরিমাণ জল নেমে আসার বিষয়টি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।
পাশাপাশি, হিমবাহের জলাধার ভেঙে ‘গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড’ বা GLOF-এর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাদুর্গত এলাকা থেকে অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটকের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

তিব্বত থেকে নেমে আসে জল
শুধু পর্যটকরাই নন, রাসুয়া জেলায় নেপাল পুলিশের অন্তত ২৬ জন আধিকারিকও এখনও নিখোঁজ। পাশাপাশি নেপালি আধাসেনার অন্তত সাত জন জওয়ানেরও সন্ধান মেলেনি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে নেপাল প্রশাসন। মুগলিন-সহ ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেশী দেশে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানির ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত সবরকম সাহায্য করতে প্রস্তুত বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

